শীতের কারণে দিল্লি ও ঝাড়খণ্ডে স্কুল বন্ধ ঘোষণা

  © সংগৃহীত

কনকনে ঠান্ডায় শিশুদের স্কুলে যাওয়ার কষ্ট থেকে স্বস্তি দিতে ভারতের রাজধানী দিল্লি ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, দিল্লির সব বেসরকারি স্কুল ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি স্কুলগুলোও একই দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। 

দিল্লির বেসরকারি স্কুলগুলোয় রবিবার শেষ হয়েছে শীতের ছুটি। সোমবার থেকে স্কুলগুলো খোলার কথা ছিল। এরই মধ্যে রবিবার দিল্লির শিক্ষা অধিদপ্তরের এক সার্কুলারে বলা হয়, দিল্লিতে চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সব বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।

কয়েক দিন ধরেই দিল্লিসহ এর আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা কমছিল। তবে রবিবার শীতের প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। সকালে সফদারজং আবহাওয়া কেন্দ্রে দিল্লির তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১০ বছরে এটা দিল্লির দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে ২০২১ সালের রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে হঠাৎ পাওয়া শীতের ছুটি আরও ৭ দিন বাড়িয়ে দিয়েছে ঝাড়খণ্ড সরকার। রবিবার একটি নোটিশ দিয়ে তারা জানিয়েছে, কেজি থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত স্কুল পড়ুয়াদের আপতত শনিবার পর্যন্ত স্কুলে যেতে হবে না। তবে স্কুল না খুললেও মিড ডে মিল বন্ধ হবে না। স্কুলে হাজির থাকতে হবে শিক্ষকদেরও।

উত্তর ভারতে গত এক সপ্তাহ ধরেই চলছে শৈত্যপ্রবাহ। তার জেরে পড়া তীব্র ঠান্ডায় কাঁপছে ঝাড়খণ্ডও। গত এক সপ্তাহে রাঁচীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রিতেও নেমেছে। তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যে স্বাভাবিকের থেকে খুব বেশি কমেছে তা নয়। বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের থেকে ২-৩ ডিগ্রি বেশিও ছিল। তফাৎটা হয়েছে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায়। দিনের যে সময়ে তাপমাত্রা বেশি হওয়ার কথা, সেই সময়ে স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই নীচে থাকছে তাপমাত্রার পারদ। ফলে শীতবোধ বাড়ছে। সকাল ৬টার বদলে রাঁচীর প্রাতঃভ্রমণার্থীরা এখন পথে নামছেন ৮টায়। অফিস যাত্রীরাও অসুবিধায় পড়ছেন।

এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে গত ৩ জানুয়ারি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল পড়ুয়াদের ছুটি দিয়েছিল ঝাড়খণ্ডের সরকার। রবিবার হয়ে সোমবার থেকে খোলার কথা ছিল স্কুল। কিন্তু হেমন্ত সোরেনের সরকার নতুন একটি নোটিশ জারি করে ছোটদের স্কুলের শীতকালীন ছুটি বাড়িয়ে দিয়েছে। 

রবিবার ঝাড়খণ্ড সরকার ওই নোটিশে জানিয়েছে, সব ঠিক থাকলে আবার আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে স্বাভাবিক পঠন-পাঠন। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যেতে না হলেও শিক্ষকদের যেতে হবে। অনলাইনে ডেটা এন্ট্রি করতে হবে। সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলোতে তো বটেই, বেসরকারি এবং আধাসরকারি স্কুলেও এই একই নিয়ম চালু থাকবে। তবে স্কুল বন্ধ থাকলেও নিয়মমাফিক মিড ডে মিল পাবে পড়ুয়ারা।


সর্বশেষ সংবাদ