০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৫

১৯তম নিবন্ধন নয়, আসছে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

এনটিআরসিএ  © ফাইল ছবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এজন্য ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের পরিবর্তে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পথে হাঁটছে সংস্থাটি।

এনটিআরসিএর একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘নিবন্ধন’ শব্দ থেকে বের হয়ে আসতে চাচ্ছে সংস্থাটি। এজন্য ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের জায়গায় ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদের তালিকা সংগ্রহের পর এনটিআরসিএর বোর্ড সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ বিষয়ে বলেন, ‘১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন হবে নাকি ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে যেহেতু শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের পর সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, সেহেতু আমরা নিবন্ধন থেকে বের হয়ে আসতে পারি। সামনে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। বিষয়টি আমাদের বোর্ড সভায় চূড়ান্ত করা হবে।’

এদিকে আসন্ন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগামী রবিবার থেকে অনলাইনে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ১৫ দিন চালু রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো- আগামী রবিবার থেকে ই-রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম শুরু করার। আগামী বৃহস্পতিবার টেলিটকের সাথে আলোচনার পর ই-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। ই-রেজিস্ট্রেশনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপর আমরা অনলাইনে শূন্য পদের চাহিদা নেওয়া শুরু করব।’

নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে যেসব পরিবর্তন আসছে
নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি তিন বিভাগের জন্যই ২০০ নম্বরের পরীক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও স্কুল-কলেজে এবং কারিগরিতে ১০০ নম্বর সাবজেক্টিভ এবং ১০০ নম্বর জেনারেল এবং মাদ্রাসারা জন্য ১৪০ নম্বর সাবজেক্টিভ এবং ৬০ নম্বর জেনারেল করা প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে এভাবে বিভাজন করলে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য তিন বিভাগের জন্য নম্বর প্যাটার্ন একই রকম রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৩৭ অপেশাদার কাজে প্রাথমিক শিক্ষকরা, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনায় অনেকে অনেক ধরনের প্রস্তাব করেছেন। স্কুল-কলেজে এবং কারিগরির জন্য একরকম। আবার মাদ্রাসার জন্য আরেকরকম। তিন বিভাগের জন্য পৃথক পদ্ধতি করা হলে এক প্রকার বৈষম্য করা হবে। সেজন্য আমরা তিন বিভাগের জন্য একই রকম পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ভাবছি। সামনে এনটিআরসিএর বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সভায় এটি চূড়ান্ত করা হবে।’

জানা গেছে, এর আগে এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষায় কখনোই প্রার্থীদের ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হয়নি। প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হবে। নতুন বিধিমালায় ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে ইতিবাচক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে বয়স গণনা করা হবে।