৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:২৯

জিপিএ-৫ পেয়েও কান্না থামছে না হাফসার

নানির সাথে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন হাফসা  © ফাইল ছবি

জিপিএ-৫ পেয়েছে সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাবা-মা ও ভাইকে হারানো সেই হাফসা। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সব আনন্দ যেন ভেসে যাচ্ছে চোখের পানিতে।

বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ বড় লবনগোলা গ্রামের হাকিম শরীফ (৪৫) ও পাখি বেগম (৩৫) দম্পতি। দারিদ্র্যের কারণে চার সন্তানকে বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে রেখে আশ্রয় নেন ঢাকায়। সেখানে স্ত্রী একটি গার্মেন্টসে আর স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মীর চাকরি নেন। স্বামী-স্ত্রীর উপার্জনে কোনোমতে চলছিল তাদের সংসার। অভাবের সংসারে শুধু একটাই স্বপ্ন, সন্তানরা পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে।

আরও পড়ুন: টিকা নেওয়ার পর স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

নিজেরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করলেও সন্তানরা কখনই অভাব-অনটনের মুখোমুখি হয়নি। ঢাকার একটি ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা উত্তোলন করে মেয়ে হাফসার বিয়ের কেনাকাটা করতে ২০ ডিসেম্বর আড়াই বছরের শিশুপুত্র নাসিরুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যান পাখি বেগম। ঢাকাতে বিয়ের কেনাকাটা সেরে ২৩ ডিসেম্বর স্বামী হাকিম শরীফ ও আড়াই বছরের পুত্র নসরুল্লাহকে নিয়ে লঞ্চ অভিযান-১০ এ ওঠেন তারা। সাথে বিয়ের অনেক মালামাল এবং নগদ টাকা থাকায় তারা লঞ্চের স্টাফ কেবিন ভাড়া নেন।

২৩ ডিসেম্বর রাত তিনটার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাদের সব কিছু শেষ হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন হাকিম শরীফ, তার স্ত্রী পাখি বেগম এবং তাদের আড়াই বছরের পুত্রসন্তান নসরুল্লাহ।

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেওয়ার নির্দেশ

কথা হলে হাফসার নানি ফরিদা বেগম বলেন, পরীক্ষার ফল জানার পর থেকে হাফসার কষ্টটা আরও বেড়ে গেছে। কিছুতেই কান্না থামানো যাচ্ছে না ওর। ভালো ফলাফল পেলেও হাফসার সামনে লেখাপড়া অনিশ্চিত। কারণ ভূমিহীন পরিবারে জন্ম হওয়া হাফসাকেই এখন ছোট দুই ভাই-বোনের দায়িত্ব নিতে হবে।

হাফসার মামা নজরুল বলেন, গত ৭ দিনে নিকটাত্মীয় ছাড়া আর কেউই পাশে এসে দাঁড়ায়নি। কোনো সরকারি সহায়তায়ও দেওয়া হয়নি।