৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও হানাদার মুক্ত দিবস

০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৪২ AM , আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৫, ০১:০১ PM
শহিদের স্মরণে স্মৃতি সৌধ

শহিদের স্মরণে স্মৃতি সৌধ © সংগৃহীত

আজ ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে ঠাকুরগাঁও মহকুমায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনতার দুর্বার প্রতিরোধে পরাজিত হয় পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্থরের জনগণ ওই দিন ভোরে ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেন।

হানাদারদের পরাজয়ের পর এ এলাকার সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে মুক্তির উল্লাস। আনন্দে উদ্বেলিত কন্ঠে জয়বাংলা ধ্বনি আর হাতে প্রিয় স্বদেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে সবাই।

২৫ মার্চের পর দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ। শুরু থেকে পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে মুক্তাঞ্চল। সেখান থেকে পরিচালিত হয় চূড়ান্ত লড়াই। ১৫ এপ্রিলের পর ঠাকুরগাঁও এলাকায় শুরু হয় হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটপাট আর বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জাটিভাঙ্গা ও রানীশংকৈল উপজেলার খুনিয়াদীঘি পাড়ে মুক্তিকামী লোকজনকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। ১৭ এপ্রিল জগন্নাথপুর, গড়েয়া শুখাপনপুকুরী এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মুক্তিকামী মানুষ ভারত অভিমুখে যাওয়ার সময় স্থানীয় রাজাকাররা তাদেরকে জড়ো করে মিছিলের কথা বলে পুরুষদের লাইন করে পাথরাজ নদীর তীরে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে।

একইভাবে রানীশংকৈল উপজেলার খুনিয়াদিঘীর পাড়ে গণহত্যা চালানো হয়। হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার নিরিহ মানুষজনকে পাকবাহিনী ধরে এনে লাইন করে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। মানুষের রক্তে এক সময় লাল হয়ে উঠে ওই পুকুরের পানি। পরবর্তিতে এ পুকুর খুনিয়াদিঘি নামে পরিচিত পায়।

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তি বাহিনীর সাথে পাকিস্থানী বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয় জুলাই মাসের প্রথম দিকে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত গেরিলারা হানাদার বাহিনীর ঘাটির উপর আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে। বেশ কিছু ব্রিজ ও কালভার্ট উড়িয়ে দেয় তারা। দালাল রাজাকারদের বাড়ি ও ঘাটিতে হামলা চালায়। নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক অভিযান চালায়।

মুক্তি বাহিনীর যৌথ অভিযানে পঞ্চগড় মুক্তিবাহিনীর দখলে আসলে পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে যায়। এরপর ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ আক্রমণ শুরু হয় ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে। মিত্রবাহিনী যাতে ঠাকুরগাঁও দখল করতে না পারে সেজন্য পাকসেনারা ৩০ নভেম্বর ভূল্লী ব্রিজ উড়িয়ে দেয়। তারা সালন্দর এলাকায় সর্বত্র বিশেষ করে ইক্ষু খামারে মাইন পুতে রাখে। মিত্রবাহিনী ভূল্লী ব্রিজ সংস্কার করে ট্যাংক পারাপারের ব্যবস্থা করে।

১ ডিসেম্বর ভূল্লী ব্রিজ পার হলেও মিত্রবাহিনী যত্রতত্র মাইন থাকার কারণে ঠাকুরগাঁও শহরে ঢুকতে পারেনি। ওই সময় শত্রুদের মাইনে দুটি ট্যাংক ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর এফ এফ বাহিনীর কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মাইন অপসারণ করে মিত্রবাহিনী ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে অগ্রসর হয়। ২ ডিসেম্বর সারারাত প্রচন্ড গোলাগুলির পর শত্রুবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে সৈয়দপুরে আশ্রয় নেয়। ৩ ডিসেম্বর ভোর রাতে শত্রুমুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও। তখন মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের জনগণ মিছিল নিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয়।

বিজয় ছিনিয়ে আনতে ১০ হাজার নারী পুরুষকে প্রাণ দিতে হয়। পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন দুই হাজার মা-বোন।

মুক্তিযুদ্ধর সময় ঠাকুরগাঁও মহকুমায় ১০টি থানা ছিল। পরে ১৯৮৪ সালে ৫টি থানা নিয়ে পঞ্চগড় জেলা এবং ৫টি নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা গঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস তেঁতুলিয়া থানা ছিল শত্রুমুক্ত। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তেঁতুলিয়া ঢুকতে পারেনি। তাই মুক্তাঞ্চল থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করা হতো। একসময় ঠাকুরগাঁও মহকুমার সব সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে অবস্থান নেন। তাই সব সীমান্তেই সরাসরি যুদ্ধ চলে ৯ মাস।

আর্জেন্টিনার ম্যাচের নতুন সূচিতে পরিবর্তন
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
এনসিপির প্রবাসী সংকট ব্যবস্থাপনা সেল গঠন
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
আরব দেশগুলোর কাছে ইরান যুদ্ধের খরচ চাইবেন ট্রাম্প 
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
এইচএসসির ফরম ফিলাপ করতে না দেওয়ায় ২৪ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে এমআইইউ-সিপিএএ’র যৌথ সেমিনার অনু…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিন ও অনলাইন ক্লাসসহ ৮ প…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence