শেখ হাসিনা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতির দুই মামলার রায় আজ
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক দুই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার (২ ফব্রুয়ারি)। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম।
তিনি বলেন, এর আগে শেখ হাসিনার প্লট দুর্নীতির চারটি মামলার রায় হয়েছে, এই দুটি বাকি ছিল। আজ এই দুই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। আইন অনুযায়ী আদালত ন্যায্য রায় দেবেন বলে আমরা আশাবাদী। আগের মামলাগুলোর মতোই দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সাজা হলে তা হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
এ বিষয়ে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট নিয়েছেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে এ ধরনের জালিয়াতি কখনোই কাম্য নয়। এ ধরনের অন্যায়ের মাধ্যমে শুধু তিনি একাই নয়, নিজের বোন ও ভাগিনাদেরও প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। এই অন্যায়ের যথাযথ শাস্তি হওয়া উচিত।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় শেখ হাসিনা, টিউলিপসহ ১৮ জন করে মোট ৩৬ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে গত ১৮ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে শেখ হাসিনা-টিউলিপ-রাদওয়ান মামলার রায়ের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক রবিউল আলম।
অপরদিকে গত ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে শেখ হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনা মামলার রায়ের জন্যও ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন একই আদালত। শেখ হাসিনা-টিউলিপ-রাদওয়ান মামলার বিবরণে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান।
ওই মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস. এম. রাশেদুল হাসান মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলায় ২৮ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, শেখ হাসিনা ও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন— জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরিচালক শেখ শহিদুল ইসলাম, তদন্তে প্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
আরও পড়ুন: ‘খালেদা জিয়া পরিষদ’ নাম দিয়ে বাড়ি দখল চেষ্টা, অতঃপর…
শেখ হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুইজনকে যুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার বিচার চলাকালে ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন— জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এর আগে, গত বছরের ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক রবিউল আলম দুই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।