শিক্ষার্থীদের ভাবনায় শোক দিবস

বঙ্গবন্ধু ছিলেন, আছেন, থাকবেন

বঙ্গবন্ধু ছিলেন, আছেন, থাকবেন
  © টিডিসি ফটো

আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। আজকের সূর্যোদয় হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে। এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং একইসঙ্গে বেদনারও। শোক দিবসকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনাগুলো তুলে ধরছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) প্রতিনিধি তানভীর আহম্মেদ

মেহেদী হাসান
গণ বিশ্ববিদ্যালয়

আগস্ট মাস শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। শত্রুরা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চাইলেও বঙ্গবন্ধু গেঁথে আছেন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধু ভালোবাসা দিয়ে সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন। তিনি অন্যায়ের সাথে আপোস করেননি। শুধু রাজনীতিতে নয়, মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তিনি। আমাদের বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে হবে, জানাতে হবে। তরুণদের দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধুকে জানার বিকল্প নেই। শুধু নামে রাজনীতি নয়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করতে হবে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সবাইকে তাঁর স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসতে হবে।

মো. মমিন সরকার
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় শোক দিবস সাধারণ কোন দিবস নয়। এটি জাতির জন্য মর্মামত, বেদনাদায়ক এবং করুণ ইতিহাসের এক কালো দিন। স্বাধীন দেশের জঘন্যতম কিছু পিশাচ জনতার আদর্শের নেতা, বাঙালির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে গোটা জাতিকে ঘৃণ্যতম কাজ উপহার দেয়া হয়েছে। আমরা সকলেই জানি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কতটা আত্মত্যাগী দেশপ্রেমী ব্যক্তি ছিলেন। এমন একজন মানুষকে এভাবে খুন করা হলো যেটা থেকে লজ্জ্বার আর কিছুই হতে পারে না। তার ৭ মার্চের ভাষণ আজও আমাদের তরুণের অন্যয়ের বিরুদ্ধে শক্ত গলায় কথা বলতে শেখায়। মুক্তিযুদ্ধে তার নেওয়া প্রতিটি প্রদক্ষেপ আজও একজন আদর্শ নেতার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। ঘাতকের ঘৃণ্যতম কাজ ঘৃণ্যই থেকে গেল আর মহান মানুষের কাজ মহানই রয়ে গেল এটাই হলো জাতীয় শোক দিবসের মূল উপজীব্য বিষয়। শোক দিবসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির জনককে এবং তার পরিবারের প্রত্যকে মানুষকে।

হাফিজা আক্তার
উত্তরা ইউনিভার্সিটি

নেতা এবং পথ প্রদর্শক শব্দ দু’টির মাঝের পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল। কিন্তু, যদি এক ব্যক্তির মধ্যে দুটো জিনিসই থাকে তাহলে তো বুঝায় যায় তিনি কতবড় মাপকাঠির মানুষ। শোকের মাস আগস্টে কার কথা বলতে চাইছি তা এতক্ষণে পাঠকদের বোধহয় বুঝার বাকি নেই। ঠিকই ধরেছেন, তিনি বাঙালি জাতির প্রাণের নেতা, জাতির পথ প্রদর্শক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ কি, দেশপ্রেম কি এই চেতনাটাই জাগিয়েছিলেন এই মহান মানুষ। আমাদের মাটি যে কেবল আমাদেরই আর তা যেকোনো মূল্যেই আমাদের আদায় করে নিতে হবে তাও শিখিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু, তাঁর কিছু বখে যাওয়া পথভ্রষ্ট সন্তানই হত্যা করেছিল তাদের পিতাকে। সে এক ভয়াল কালো অধ্যায়৷ নিজেদের জাতির পিতাকেই মেরে ফেললাম ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। কিন্তু যতদিন এই জাতির অস্তিত্ব থাকবে ততদিনই তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শের মাঝে।

সাজিয়া আফরিন সুলতানা মিথিল
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

১৫ আগস্ট মানেই বেদনাদায়ক স্মরণীয় একটি দিন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার পরিবারবর্গ সমেত হত্যার মাধ্যমে ঘাতকরা নতুন ইতিহাসের জন্ম দেন। এই ইতিহাস বাঙালির লজ্জার ইতিহাস, এই ইতিহাস আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে যাওয়ার ইতিহাস, এই ইতিহাস জাতির অভিবাবক হারানোর ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাধারণ জনতার আশা-ভরসার প্রতীক। বাঙলাদেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের প্রাণের নেতা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৭৫’র ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে খুন করার মাধ্যমে ঘাতকরা চেয়েছিল তার অস্তিত্ব মুছে দিতে। কিন্তু, তারা সেটা পারেনি। বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে যেমন ছিলেন তেমন হয়ে বেঁচে আছেন, থাকবেন। জাতীয় শোক দিবস অমর হোক।

কানিজ ফাতেমা রুপা
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ


মন্তব্য