বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রচুর গান চর্চা করতাম

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রচুর গান চর্চা করতাম
  © টিডিসি ফটো

সঙ্গীত বরাবরই সবার কাছে জনপ্রিয়। সঙ্গীতের সাথে মানুষের যেন এক আত্মার সম্পর্ক। তাইতো চলমান করোনাকালীন সময়েও থেমে নেই বাংলার সঙ্গীত শিল্পীরা। ভক্তদের ভালো লাগা গান উপহার দিতে নানান তোড়জোড়। ‘ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো’ গানের জন্য সুপরিচিত সঙ্গীত শিল্পী লুৎফর হাসান ঈদে তার ভক্তদের উপহার দিচ্ছেন তার গাওয়া দুই গান। তরুণ সমাজের জনপ্রিয় এই সঙ্গীত শিল্পীর করোনাকালীন সময় যাপনসহ সঙ্গীত জগতের নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে। তুলে ধরছেন সাদিয়া তানজিলা—

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার গানের জগতে পদার্পণ কিভাবে?
লুৎফর হাসান: ছোটবেলা থেকে গানের প্রতি অসম্ভব ভালোলাগা ছিল। রেডিওতে গান শুনতাম, প্রচুর সিনেমা দেখেছি ছোটবেলা থেকেই। চেষ্টা করতাম গান গাওয়ার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রায় সকল বিভাগের অনুষ্ঠানে গান করতাম। পড়াশোনার পাশাপাশি গানের চর্চাটা তখন থেকে আরো বেগবান হয়।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: গানের জগতে আসায় পরিবারের ভূমিকা কতোটা?
লুৎফর হাসান: পরিবার থেকে আমার গান করাটা তেমন পছন্দের নয়। আমাকে অবশ্য এখনও বলা হয় গান ছেড়ে দিতে। আসলে ভালোলাগার কোনো কিছুই সহজে ছাড়া যায় না। ভক্তদের জন্যই এখনো আমার গান করা।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: সঙ্গীতকে কি পেশা হিসেবে নিয়েছেন, নাকি শুধুই ভালোলাগা ?
লুৎফর হাসান: ভালোলাগা থেকে গান করা। গান একটা শখ বলতে পারেন। তবে গানকে অনেকে পেশা হিসেবে নেয়নি। গানের পাশাপাশি আমি জব করছি দীর্ঘদিন।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার গাওয়া গানের সংখ্যা কত?
লুৎফর হাসান: নিজের লেখা ও সুর করা গানের সংখ্যা সাড়ে ছয়শো। নিজের কণ্ঠ দেওয়া মোট গান আড়াইশো। ইউটিউবে বেশকিছু গানও রয়েছে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ‘ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো’ গানটি সম্পর্কে কিছু জানতে চাই ?
লুৎফর হাসান: এই গানটি লিখেছেন সোমেশ্বর অলি এবং কণ্ঠ দিয়েছিলাম আমি। গানটি এভাবে দর্শকদের ভালো লাগবে ভাবিনি। ২০১০ সালে গানটি রেকর্ড করা হয়, ২০১১-তে অ্যালবামটি প্রকাশ করা হয়। গানটি তখন থেকে এখনো দর্শক সারিতে বেশ জনপ্রিয় রয়েছে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ঈদে দর্শকদের কি গান উপহার দিচ্ছেন?
লুৎফর হাসান: ঈদে আমার গাওয়া দুটি গান রিলিজ হবে। ‘কার বালিশে ঘুমাও’ আর ‘একা চলা নদী’ শিরোনামের দুটি গান। ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে আমার লেখা সুরে গাওয়া ‘কার বালিশে ঘুমাও’। মিউজিকে আমজাদ হোসেন আর ভিডিওতে রয়েছে আল মাসুদ। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গানটি মুক্তি পাবে। ‘একা চলা নদী’ গানটি ইশতিয়াক আহমেদের লেখা, আমার সুর ও গাওয়া। আমজাদ হোসেনের মিউজিক, ভিডিও নির্মাণ করেছেন ইশতিয়াক আহমেদ। গানে অভিনয় করেছেন নিশাত প্রিয়ম ও শিবলি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার গাওয়া প্রিয় গান কোনটি?
লুৎফর হাসান: ‘যদি কান্না কান্না লাগে’ গানটি আমার খুব প্রিয়। গানটি গাংচিল মিউজিকের, লেখা সুর ও কণ্ঠ আমার।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: করোনায় কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন?
লুৎফর হাসান: বাসায় সময় কাটছে। কাজের মাঝে সময় পার করছি, গান লিখছি আর পড়াশুনা করছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: করোনাকালীন সময়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে আপনার কোনো বার্তা আছে?
লুৎফর হাসান: দর্শকদের বলবো, আপনারা প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে যাবেন না। বাসায় থাকুন আর নিরাপদ থাকুন। ভিড় এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত হাত পরিষ্কার করুন, মাস্ক ব্যবহার করুন। বেশি বেশি বাংলা গান শুনুন আর বাংলাকে ভালবাসুন।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনাকে ধন্যবাদ।
লুৎফর হাসান: দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকেও ধন্যবাদ।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ