করোনাকালে নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছি

  © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। করোনার সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ছয় হাজার পুলিশ সদস্য। যা দেশের মোট আক্রান্তের দশ শতাংশ। তবুও ভয় আতঙ্ক দূরে ঠেলে কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের উপ পরিদর্শক হিসেবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত আছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফখরুল ইসলাম সাকিব। তিনি লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের করোনা ঝুঁকি এবং কর্মক্ষেত্রের প্রতিকূলতা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস  প্রতিনিধি— শাহাদাত বিপ্লব

ডেইলি ক্যাম্পাস: করোনায় কিভাবে সময় কাটছে?
ফখরুল ইসলাম সাকিব: আমার পোস্টিং হয়েছিল বান্দরবন জেলার রোয়াংছড়ি থানায়। তবে মার্চের ২৪ তারিখে পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে ১৫ দিনের জন্য আমাকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইমারজেন্সি ডিউটিতে পাঠানো হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় আড়াই মাস হয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।
তবে আমাদের কাজের ধরণ ভিন্ন। আইন শৃঙ্খলার পাশাপাশি হরেক রকম কাজ করতে হয়। যেমন কিছুদিন ঘূর্ণিঝড় আমফানের আগে মানুষকে সচেতন করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়েছে। এছাড়া করোনার কারণে দায়িত্ব আরও বহুগুণ বেড়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘনবসতির কারণে এখানে মানুষকে সচেতন রাখতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়। এখনও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। চেষ্টা করছি নিজের সবটুকু দিয়ে। বাকীটা আল্লাহ যতদিন তৌফিক দেয়।

ডেইলি ক্যাম্পাস: রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবস্থা কেমন?
ফখরুল ইসলাম সাকিব: গত মাসের শেষদিকে প্রথম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা শণাক্ত হয়। শুরু থেকেই যারা শণাক্ত হয়েছেন তাদেরসহ তাদের আশেপাশের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। তবে তবুও প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। রোহিঙ্গারা খুব বেশি অসচেতন।
তার উপর আবার খুব গাদাগাদি করে তাদের থাকতে হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেলে আসলে বোঝার উপায় নেই যে, পৃথিবীতে এতো বড় একটা মহামারী চলছে। তাদের কোন স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই। আর সামাজিক দূরত্ব মানা এখানে কোনভাবেই সম্ভব নয়। এখানে করোনা ছড়িয়ে পড়লে খুব বিপর্যয় তৈরি হবে। কন্ট্রোল করা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

ডেইলি ক্যাম্পাস: কাজ করার ক্ষেত্রে নিজেকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখছেন?
ফখরুল ইসলাম সাকিব: প্রায় সময় চেক পোস্টে টিউটি থাকে। যেন কোন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে অন্য কোথাও না যেতে পারে। পুলিশ সুপার এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হয়েছে। এছাড়া নিজেরাও সুরক্ষা সামগ্রী কিনে ব্যবহার করছি। চেক পোস্টে যখন আমরা ডিউটি করি প্রতিদিনই অনেক মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। তবুও নিজেরা সর্বোচ্চটা দিয়ে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ডেইলি ক্যাম্পাস: পরিবারকে কিভাবে ম্যানেজ করছেন?
ফখরুল ইসলাম সাকিব: পরিবার কুমিল্লায় থাকেন। পরিবারে আমরা এক ভাই এক বোন। তবে বাবা মা সবসময় আমাকে নিয়ে খুব চিন্তায় থাকেন। প্রতিদিনই কথা হয় সবার সাথে। সতর্ক থাকতে বলেন। দোয়া করেন। অন্য পেশার মানুষজন দিনশেষে পরিবারের সাথে একটু হলেও সময় কাটাতে পারছেন। কিন্তু আমাদের আসলে সে সুযোগ নাই।

ডেইলি ক্যাম্পাস: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানুষের সচেতনতা কেমন?
ফখরুল ইসলাম সাকিব: রোহিঙ্গারা খুব বেশি কুসংস্কার বিশ্বাস করে। তারা একেবারেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না। আমরা বুঝানোর চেষ্টা করলেও তারা বুঝতে চায় না। তাদেরকে সচেতন করার চেষ্টা করলেও তারা মনে করে তাদের খারাপের জন্য আমরা বলছি। তারা খুব বেশি আক্রমণাত্নক। তবুও আমরা চেষ্টা করি তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানানোর জন্য।

ডেইলি ক্যাম্পাস: ধন্যবাদ আপনাকে।
ফখরুল ইসলাম সাকিব: ডেইলি ক্যাম্পাসকেও ধন্যবাদ।


সর্বশেষ সংবাদ