ঘুষের টাকা না পাওয়ায় সহকারী শিক্ষককে পেটালেন প্রধান শিক্ষক!

সহকারী শিক্ষককে মারধর
সহকারী শিক্ষককে মারধর  © সংগৃহীত

প্রধান শিক্ষকের হাতে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠে এসেছে, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমানের (৪২) বিরুদ্ধে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দাবি তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। আহত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম (৫৬) ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।

রোববার (১৯ জুন) স্কুল চলাকালীন ওই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। সহকারী শিক্ষকের অভিযোগ ঘুষের টাকা না পাওয়ায় তাকে পেটান প্রধান শিক্ষক।

সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন ওই স্কুলের ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী উচ্চতর বেতনস্কেলের (টাইমস্কেল) জন্য রেজুলেশন করে আবেদন করেন। সেই আবেদন ফরমে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরবাবদ জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করেন। দুই মাসেও আবেদনপত্রগুলো প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর না করার কারণ জানতে চান সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। তখন প্রধান শিক্ষক ‘জনপ্রতি দুই হাজার টাকার পরিবর্তে ১৫শ’ টাকা করে দাবি করেন। রফিকুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক তাকে চেয়ার দিয়ে মারপিট করেন। 

আরও পড়ুন:পরীক্ষার চাপ কমাতে পুদিনা চা

পাল্টা অভিযোগ করে প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন এখানে ঘুষ চাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। নানা কারণে টাইমস্কেলের জন্য রেজুলেশন করতে সময় লেগে গেছে। রবিবার এ নিয়ে সহকারী শিক্ষকের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক আমার টেবিলের ওপর জুতা রেখে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তখন আমি মোবাইল দিয়ে ছবি তুলতে গেলে সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আমার মোবাইল ফোন কেরে নিয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তখন নিজেকে বাঁচাতে আমি তাকে কাঠের চেয়ার দিয়ে আঘাত করেছি। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। তার মাথায় সেলাই ও ব্যান্ডেজ করতে হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছেন। এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্কুল পরিচালনা কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক দুইজনই আমার কাছে এসেছিলেন। আগামী বুধবার উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা রয়েছে।


x