বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়াসহ ৮ দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়াসহ ৮ দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা
  © টিডিসি ফটো

দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়াসহ ৮ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে এ আন্দোলন শুরু করেন তারা। মানববন্ধনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত সাত কলেজ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্যবিদ্যালয় এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

এসময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদ অর্ক বলেন, ‘দেশে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে করোনাকে মোকাবিলা করা হচ্ছে। বস্তুত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সব কিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে আমরা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা বলছি না।’

তিনি বলেন, ‘শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খোলা যেতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে আমাদেরকে সেশনজটের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি জানাচ্ছি।’

তাদের ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-

১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে আংশিকভাবে অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে হবে 
২. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে করোনা ইউনিট (আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন) চালু করতে হবে
৩. একাডেমিক বিল্ডিং গেট, হল গেট, ডিপার্টমেন্ট গেট, মেইন গেট এসব জায়গায় অবশ্যই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করতে হবে
৪. শিক্ষার্থীদের মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে
৫. প্রয়োজনে হাইব্রিড সিস্টেম চালু করতে হবে। যেখানে কিছু শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে ক্লাস তারা ক্লাস করবে এবং একই সময়ে কিছু শিক্ষার্থী ক্লাস অনলাইনেও করতে পারবে
৬. বয়স্ক শিক্ষক-কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে
৭. করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া, হল ভাড়াসহ বকেয়া ফি মওকুফ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি অনুদান দিতে হবে এবং
৮. হল রুম, গণরুমের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘সম্পূর্ণ বাংলাদেশকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে যদি রাখা যেতো তাহলে আমরা তার জন্যই কথা বলতাম। যেহেতু এই প্রক্রিয়া বাস্তবিকভাবে শুরু থেকেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তাই উপরোক্ত দাবীগুলোই আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে মূখ্য দাবী।’

উল্লেখ্য, আজ সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দেওয়ায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ