০৬ এপ্রিল ২০২২, ১৬:২৮

কিডনি রোগ আছে কি-না বোঝার উপায়

যেভাবে বুঝবেন কিডনিতে সমাস্যা আছে কি-না  © টিডিসি ফটো

কোনো ব্যক্তির কিডনি রোগ আছে কি না তা জানার জন্য ৭টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বলেছেন আন্তর্জাতিক কিডনি সমিতি। তাদের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ–সূচক হলে বুঝতে হবে ওই ব্যক্তি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই যেসব কারণে কিডনি  রোগ হয় সেসব বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারকে প্রচারণা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সভাপতি অধ্যাপক হারুন-আর-রশিদ। 

গত মাসে প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটির বেশি লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে বছরে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি আকস্মিক বিকল হয়। যার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ রোগীই আবার মৃত্যুবরণ করেন। যেসব রোগ মানবদেহে সংক্রামক নয় এর মধ্যে কিডনি রোগ খুবই জটিল একটি রোগ। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক যেসব লক্ষণ দেখে বোঝা যাবে আমাদের কিডনিতে সমাস্যা আছে কি-না:

অস্বাভাবিক ক্লান্তিবোধ: আপনার কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। এজন্য সারাদিন অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব হয়, শরীর দুর্বল লাগে।

আরও পড়ুন: সেহরির যেসব খাবার স্বাস্থ্য ঠিক রাখবে

ওজন কমে যাওয়া: কিডনি জটিলতায় শরীরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। এরকম যদি নিয়মিত হতে থাকে তাহলে বুঝবেন আপনার কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে না।

চোখ, মুখ ও পা ফুলে যাওয়া:  কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে বিশেষ করে চোখের নিচে, মুখে, পায়ের গোড়ালি ও হাত ফুলে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, একটু বেশি ঘুমালে বা অ্যালার্জির কারণে ফুলে যাওয়ার সাথে কিডনির অসুখে ফোলার পার্থক্য হচ্ছে এর স্থায়িত্ব। অর্থাৎ কিডনিজনিত কারণে ফুললে এই ফোলাভাব দীর্ঘদিন ধরে থেকে যায়।

উচ্চ রক্তচাপ: কিডনি সমাস্যা দেখা ‍দিলে মানবদেহে উচ্চ রক্তচাপ তৈরী হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন। যার মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখেরও বেশি লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

ঘুমের সমাস্যা হওয়া: কিডনিজনিত জটিলতার কারণে ঘুমের সমাস্যা হতে পারে। কিডনি যখন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না তখন শরীর থেকে ঠিকমতো পানিও নিঃসরণ হয় না। এতে কিছু পানি গিয়ে ফুসফুসে জমে যায়। এ কারণে ঘুমের সমস্যা তৈরী হয়। এ রকম ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগী দাঁড়ানো অবস্থায় বুক ভরে শ্বাস নিতে পারলেও শোয়া অবস্থায় নিতে পারছেন না।

আরও পড়ুন: রোজায় যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

ক্ষুধা কমে যাওয়া: কিডন’র সমাস্যা ‍দেখা ‍দিলে মানুষের স্বাভাবিক ক্ষুধা কমে যায়। নিয়মমাফিক ঠিক সময়ে খাবার খাওয়ার জন্য আর ক্ষুধা লাগে না।

ত্বকের সমস্যা: কিডনি শরীর থেকে সব ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। সেই কাজটি কিডনি ঠিকমতো করতে না পারলে ত্বকে এর ছাপ পড়ে। উদাহরণ স্বরুপ তখন ত্বকে চুলকানি হয়, ত্বকের রঙ পরিবর্তন হয়, ত্বক খসখসে রুক্ষ হয় এবং ফুসকুড়ি হয়।

প্রস্রাব কম-বেশি হওয়া : কিডনির সমস্যার কারণে প্রস্রাব অস্বাভাবিকভাবে কম-বেশি হয়। শরীর থেকে পানি বের করা ছাড়াও পানি শুষে নেয়ার কাজও করে কিডনি। সেটি করতে না পারলে বেশি প্রস্রাব হয়ে থাকে। কিডনিতে সমস্যা হলে শরীর থেকে প্রোটিন বেশি বের হয়ে যায় তাই প্রস্রাবে ফেনা ভাব হয়। কিডনিতে পাথর, ক্যান্সার, টিউমারের কারণে প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে পারে। আর এ কারণেই প্রস্রাবের রঙ লালচে হয়।

মাংসপেশিতে টান লাগা: কখনো কখনো মাংসপেশি কুঁচকে যায় কিডনি সমাস্যার কারণে। এতে মাংসপেশিতে টান লাগে।

প্রস্রাব হলুদ হওয়া: কিডনির সমাস্যা হলে ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া অথবা প্রস্রাব কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রস্রাব হলুদ হয়ে যেতে পারে।

তৃষ্ণার্থ হওয়া: কিডনিতে সমাস্যা দেখা দিলে ঘন ঘন খুব বেশি তৃষ্ণা পায়। 

শ্বাস-প্রশ্বাস ছোট হওয়া: কিডনি জটিলতার কারণে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস ছোট হয়ে যায়। কেননা,  কিডনি শরীর থেকে ঠিকমতো পানি নিঃসরণ করতে না পারলে সেই পানি ফুসফুসে গিয়ে জমা হয়। মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস ছোট হওয়ার এটি একটি অন্যতম কারণ। এতে মানুষের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।