যে কারণে বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া বাহকের হার তুলনামূলকভাবে বেশি

০৮ জুলাই ২০২৪, ০৮:২০ PM , আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৫, ১১:৪৭ AM
থ্যালাসেমিয়া

থ্যালাসেমিয়া © ফাইল ফটো

বিশ্বের অন্য অনেক দেশ বা অঞ্চলের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যার মধ্যে থ্যালাসেমিয়া বাহকের এই হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ইউরোপিয়ান জার্নাল অব হেমাটোলজিতে প্রকাশিত ২০২০ সালের এক গবেষণাপত্রে উঠে আসে যে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে থ্যালাসেমিয়া বাহকের হার সবচেয়ে বেশি।

তবে রক্তের রোগ থ্যালাসেমিয়ার বাহকের হার যে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের চেয়ে বাংলাদেশে বেশি তা হয়ত আমাদের অনেকেরই অজানা। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় থ্যালাসেমিয়া জরিপ অনুযায়ী দেশে মোট জনসংখ্যার ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক।

ঐ গবেষণাপত্রের হিসেব অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থ্যালাসেমিয়া বাহকের হার সবচেয়ে বেশি মালয়েশিয়ায়, ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে মিশরে এই হার সবচেয়ে বেশি, ৯ থেকে ১০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অঞ্চলগত বা জাতিগত বিশেষত্বের কারণে বিশেষ এলাকার মানুষের মধ্যে থ্যালাসেমিয়ার হার বেশি হয়ে থাকে।

“থ্যালাসেমিয়া শব্দটির উৎপত্তি গ্রীক শব্দ ‘থ্যালাসা’ থেকে, যার অর্থ সমুদ্র। একসময় ধারণা করা হতো শুধু সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষেরই থ্যালাসেমিয়া হয়। ভূমধ্যসাগরীয় এলাকার দেশগুলোর মানুষের মধ্যে এই রোগের হার সবচেয়ে বেশি ছিল,” বলছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গুলজার হোসেন।

তিনি বলছিলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার মধ্যে থ্যালাসেমিয়া বাহকের হার কী পরিমাণ, তা নির্ণয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোনো জরিপ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় হওয়া কয়েকটি জরিপের বরাত দিয়ে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া বাহকের হার প্রায় ১৪ শতাংশ হয়ে থাকতে পারে। তবে থ্যালাসেমিয়া বাহক মানেই কিন্তু থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী নন।

যে কারণে থ্যালাসেমিয়া হয়ে থাকে:
থ্যালাসেমিয়া হওয়ার কারণ ত্রুটিপূর্ণ জিন, যা রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনকে প্রভাবিত করে। এটি একটি জন্মগত রোগ। অর্থাৎ, একজন শিশু জন্মের সময়ই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হয়ে থাকে। একজন হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. গুলজার হোসেন। তিনি জানান, দুই জন থ্যালাসেমিয়া বাহক যদি চারটি সন্তান জন্ম দেন, তাহলে তাদের মধ্যে একজনের থ্যালাসেমিয়া রোগী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ ২৫% সম্ভাবনা থাকে যে একজন সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগী হিসেবে জন্ম নিবে।

অর্থাৎ, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু যেই ত্রুটিপূর্ণ জিন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে, ঐ শিশুর বাবা ও মা’র মধ্যে আগে থেকে সেই ত্রুটিপূর্ণ জিনের উপস্থিতি ছিল। এরকম ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর মা-বাবাকে থ্যালাসেমিয়া বাহক বলা হয়।

থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা:
নিয়মিত ‘ব্লাড ট্রান্সফিউশন’ বা রক্ত স্থানান্তর থ্যালাসেমিয়ার প্রধান চিকিৎসা। এই পদ্ধতিতে সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহ পরপর থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর দেহে রক্ত পরিবর্তন করা হয়। এই পদ্ধতিতে ‘লিউকো রিডিউসড’ বা শ্বেত কণিকা বাদে লোহিত কণিকা দেয়া হয় রোগীর দেহে।

এর পাশাপাশি ট্রান্সফিউশনের ফলে শরীরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত লৌহ কণিকার কারণে রোগীর হৃৎপিণ্ড, যকৃৎ আর অগ্নাশয়ে সমস্যা তৈরি হয়। পাশাপাশি ডায়বেটিস, লিভার সিরোসিসের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে। এসব শারীরিক সমস্যার সমাধানে ট্রান্সফিউশনের পাশাপাশি বিশেষ ওষুধও গ্রহণ করতে হয়।

আর থ্যালাসেমিয়ার একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন। কিন্তু নানাবিধ ঝুঁকি আর উচ্চ খরচের কারণে খুব কম ক্ষেত্রেই বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লানটেশন করা হয়ে থাকে।

 
ড্রোন হামলায় আমিরাতে বাংলাদেশি নিহত
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: ডোনাল্ড ট্…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
জবির গনিত বিভাগের সেমিনারে ছাদের পলেস্তারা খসে ২ শিক্ষার্থী…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসিতে যশোর বোর্ডের ১৯ কেন্দ্র বাদ, যোগ হলো নতুন প্রতিষ্ঠ…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
রাশিয়ার সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সবাই
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘গ্লোবাল আইটি ক্যারিয়ারস অ্যান্ড স…
  • ০১ এপ্রিল ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence