অধ্যাপক ইউনূস যমুনায় থাকবেন কতদিন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এরই সাথে অবসান ঘটেছে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন জনমনে প্রশ্ন—সদ্যবিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কবে নাগাদ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছাড়ছেন এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোথায় সরকারি বাসভবন হিসেবে নিবাস শুরু করবেন।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তৎকালীন পরিস্থিতিতে গণভবন বসবাসের অনুপযোগী থাকায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কে তার বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের এডিসি মীর আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন, অধ্যাপক ইউনূস বর্তমানে যমুনাতেই অবস্থান করছেন। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, গুলশানের নিজ বাসভবনে সংস্কারকাজ চলায় তিনি স্ত্রী ও সন্তানসহ সাময়িকভাবে সেখানে আছেন। সংস্কার শেষ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি স্থায়ীভাবে নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে কুপিয়ে জঙ্গলে ফেলে পালালেন স্বামী
ডিএমপি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কেই তার সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ওঠার আগে ভবনটিতে প্রয়োজনীয় কিছু সংস্কার ও বিন্যাস করা হবে।
রমনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর আসাদুজ্জামান জানান, এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আনুমানিক দুই মাস সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, ভবনটি খালি হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থাৎ প্রায় এক মাসের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এটি ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে বলে তিনি জানান।
দায়িত্ব ছাড়লেও অধ্যাপক ইউনূস দেশেই অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র। আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ‘ইউনূস সেন্টার’-এ নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করবেন। সেখানে তার বিশ্বখ্যাত ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) ধারণা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাপানের ‘সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন’-এর আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সফরে টোকিও যাওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে নির্ধারিত লেকচার ও বৈঠক শেষে তিনি পুনরায় দেশে ফিরবেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা