১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৪

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কি আজ হবে?

জাতীয় সংসদ ভবন  © সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নেবেন। তাদের সঙ্গে বিরোধী দলীয় এমপিদেরও শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিএনপির এমপিরা এ শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি।

অনেক যদি-কিন্তু এর পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে নবনির্বাচিত এমপিদের দুটি শপথেরই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিতরা দুটি শপথ নেবেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং আইন প্রণয়ন শাখা-১ এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা হতে শেরে বাংলা নগর, ঢাকায় অবস্থিত সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের (নীচ তলা) ১ম লেভেলে অবস্থিত শপথ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব আশিক আহমদ তানভীর খান।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা। সে হিসেবে নির্বাচিতরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। তবে বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে এটি গঠন এবং সংবিধান সংস্কার কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সোমবার রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ সদস্যদের শপথ আগামীকাল (মঙ্গলবার) নির্ধারিত সময়েই হতে হবে। ‘সংবিধানে নেই’ মর্মে যদি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ সদস্য হিসেবে শপথ না নিতে চান, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথেরও কোন মানে নেই। ২০২৬ সালে নির্বাচন কোন সংবিধানে ছিল জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ?

আরও পড়ুন: নতুন সংসদ-সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ আজ, প্রস্তুত সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা

বিএনপি বলছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই। সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা রয়েছে। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরও শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই।

সোমবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার ‘অ্যাভেইলেবল’ না থাকলে বা অপারগ হলে কিংবা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি না থাকলে বিকল্প হচ্ছে সিইসি শপথ পড়াবেন। সে হিসেবে মঙ্গলবার নির্বাচিত সদস্যদের শপথ হবে। এটা সিইসির সাংবিধানিক এখতিয়ার।

তিনি বলেন, ‘এর বাইরে সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সে মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং শপথ পরিচালনার জন্য তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন, সেটা নির্ধারিত হয়—এতগুলো হয়-এর পরে, তারপরে হতে পারে।’