০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৭

‘ছুটি চেয়েও পেলাম না, ছেলেটা মারা গেল— ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ’

পুলিশ সদস্য মেহেদি হাসান ও ব্যাগরাউন্ড মৃত শিশু  © সংগৃহীত

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছুটি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়বিদারক স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য মেহেদি হাসান। তিনি জানান, ছেলের মৃত্যুর মতো চরম ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালনের অজুহাতে তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মেহেদি হাসান লেখেন, ‘ছুটি চাইছিলাম পাইলাম না, আমার ছেলেটা মারা গেল! ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ। আমি না থাকলে নির্বাচন আটকে যেতো! কী জবাব দিবো বউকে?’

এর প্রায় এক ঘণ্টা পর দেওয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, ‘আমার বউটা এখনো জানে না যে তার কলিজার টুকরাটা আর পৃথিবীতে নেই! ডাক্তার বলতে বারণ করেছে! বাবুর জন্য কেনা জিনিসগুলো কী করবো বলতে পারেন? আমার আবার কালকে নাইট ডিউটি আছে। আমার ছেলের লাশটা এম্বুলেন্সে করে কেউ আমার কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন?’

আরও পড়ুন: পরীক্ষার প্রশ্নের নম্বর বণ্টন নিয়ে নতুন নির্দেশনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

ওই স্ট্যাটাসে তিনি নিজের আর্থিক ও পারিবারিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘গরীব মানুষের সন্তান আমি, চাকরিটা খুব দরকার। আমি বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য, সন্তান মারা গেলেও ছুটি যাই না আমি। আমি অনার্সে গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত, অনার্সের সিজিপিএ ৩.৭২, মাস্টার্সের ৩.৯০। প্রয়োজনে প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে পারি। প্রশাসনিক কাজে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা। কারো সন্ধানে কি একটা চাকরি হবে? এই বউ-বাচ্চা নিয়ে পেটে ভাতে চলা যাবে এই রকম সেলারি হলেই হবে। এখানে নিঃশ্বাস নেওয়াটা কষ্টকর হয়ে গেছে।’

সবশেষ সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে সন্তান হারানোর শোক প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে মেহেদি হাসান লেখেন, ‘আমার রাজপুত্র চিরনিদ্রায়। আমার কুলে উঠলো না।’

স্ট্যাটাস স্থির করে রেখেছিলাম উল্লেখ করে তিনি লেখেন— ‘দুই রাজকন্যার পর এক রাজপুত্র দিয়ে আল্লাহ তায়ালা আমাকে পূর্ণতা দান করলেন কিন্তু সেই স্ট্যাটাস দেওয়ার তওফিক আর হলো না! ছবিটা দেখে বলেন তো আমার রাজপুত্র হইছিলো নাহ? আজ রাত এত দীর্ঘ কেন! আর যে পারছি না আমি।’

উল্লেখ্য, মেহেদি হাসান ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।