আয়কর রিটার্নের সময় বাড়ল ১৫ দিন
ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করদাতাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারিত ছিল ৩১ জানুয়ারি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে।
এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩২৮ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বিশেষ আদেশ নং-১/২০২৫ এর ক্রমিক নং-১ এ উল্লিখিত করদাতাগণ ব্যতীত অন্য যেকোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হইলে তাহারা ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের নিকট সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতাসহ আবেদন করিলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত/যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিল করিতে পারিবেন।’
আরও পড়ুন : পে স্কেল নিয়ে সেনাবাহিনীর আন্দোলনের ছবিটি ‘এআই’
সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, চলমান নির্বাচনী প্রচারণা এবং গণভোটকে কেন্দ্র করে অনেক করদাতা সময়মতো রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন না। এ বাস্তবতায় করদাতাদের চাপ কমাতে সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের তথ্যমতে, চলতি করবর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৪ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ নিবন্ধিত করদাতাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো রিটার্ন দাখিল করেননি, যা সময় বাড়ানোর অন্যতম কারণ। এর আগে চলতি করবর্ষে দুই দফায় আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়েছিল।
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাদের জরিমানা দিতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কর রেয়াত ও সরকারি সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হতে পারেন।