০৩ এপ্রিল ২০২২, ২২:৪৯

বশেমুরবিপ্রবিতে বাস চালক-শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় মারামারি

বশেমুরবিপ্রবিতে বাস চালক-শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় মারামারি  © টিডিসি ফটো

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস ড্রাইভার এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষার্থী এবং দুই বাস ড্রাইভার আহত হয়েছেন।

আহত শিক্ষার্থী ফয়সাল শেখ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপরদিকে আহত দুই ড্রাইভারের নাম রবিউল ইসলাম এবং বাহারুল শেখ। এদের মধ্যে মধ্যে ড্রাইভার বাহারুল শেখ বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ১৫নং বাসের ড্রাইভার বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গাড়ি এসে তার বাইককে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরে তিনি বাস থামিয়ে তার সাথে কথা বলতে গেলে চালক তার বাবা-মাকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় কটূক্তি করেন। পরে তার জামার কলার ধরলে তারা উভায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় তার বাইকের চাবিতে ড্রাইভার কপালে আঘাত লাগে। এরপরেই কয়েকজন ড্রাইভার মিলে তাকে বেধড়ক মারধর করেন।

আরও পড়ুন: ‘পঁচা ভাত’ খেয়ে রোজা রেখেছেন জাবির আবাসিক ছাত্রীরা

এবিষয়ে পরিবহন প্রশাসক তাপস বালা বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছেই আমি আহত শিক্ষার্থী ও ড্রাইভারকে প্রক্টর স্যারসহ হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

পরবর্তীতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মোরাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে অভিযুক্ত দুই বাস ড্রাইভারকে বরখাস্ত করা হয়।

আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ আহসান ফয়সালের সাথে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রেক্ষিতে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন ড্রাইভার (১) রবিউল ইসলাম, (২) আতিকুর রহমানকে (ঝন্টু) সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে অফিস আদেশে বলা হয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনার কিছু সময় পরেই প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের সাথে এক বাস ড্রাইভারের বাকবিতণ্ডা হয়। যা পরে হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষের রূপ নেয়। এতে বাস ড্রাইভার বাহারুল শেখ আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বি এম আশিকুর রহমান দাবি করেন, ‘আহত ড্রাইভারকে কথা বলার জন্য ডেকে নেয়া হয় এবং পরে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি তাকে মারধর করে।’ তবে তিনি কে বা কারা ডেকে নিয়েছে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে পারেননি।