১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৪

আইইউটি শিক্ষার্থীর গবেষণা প্রবন্ধ স্থান পেল আন্তর্জাতিক জার্নালে

আইইউটি শিক্ষার্থী ফারহান লাবির মাহি  © সংগৃহীত

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শিক্ষার্থী ফারহান লাবির মাহির একটি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে সহলেখক হিসেবে ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট (বিটিএম) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহি। দেশের কৃষিতে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ‘Leveraging Blockchain Technology for Food Supply Chain to Avoid the Intermediaries in Bangladesh’ শীর্ষক গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইরানের Food Science & Technology Journal-এ।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে মাত্র ৫ শতাংশ খাদ্যপণ্য সরাসরি কৃষক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছায়। আর বাকি ৯৫ শতাংশ বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে বাজারে আসে। এতে কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং ভোক্তাদের বেশি দাম দিতে হয়।

এ সমস্যার সমাধানে গবেষণায় ব্লকচেইন প্রযুক্তি ও স্মার্ট কন্ট্রাক্টভিত্তিক একটি ডিজিটাল খাদ্য সরবরাহ মডেল প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে কৃষক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পণ্য তালিকাভুক্ত করতে পারবেন এবং ক্রেতারা সেখান থেকেই পণ্য অর্ডার করতে পারবেন। 

পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত হলে স্মার্ট কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ কৃষকের কাছে পৌঁছে যাবে, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা অনেকাংশে কমে আসবে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ব্লকচেইনের মাধ্যমে খামার থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত খাদ্যের পুরো যাত্রাপথ ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: সময়মতো অবসরের টাকা পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা, ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন আজিজি

পেঁয়াজ ও আলুর বাজারদরের উদাহরণ বিশ্লেষণে গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে অনেক সময় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ব্লকচেইনভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হলে কৃষক ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন। এতে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন।

গবেষকদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, কৃষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ব্লকচেইনভিত্তিক এ ব্যবস্থা বাংলাদেশের কৃষি খাতে স্বচ্ছ ও টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে।