০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৫০

সমালোচনার মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত কার্যক্রম স্থগিত মন্ত্রণালয়ের

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর  © সংগৃহীত

দুর্নীতির অভিযোগ এবং সমালোচনার মুখে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার চলমান কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আপাতত এমপিওভুক্তির এই কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।’

এর আগে, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত সংবাদে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এমপিওভুক্তিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ছয় কর্মদিবসের মধ্যে ৩ হাজার ৬১৫টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন যাচাইয়ের যে 'দ্রুতগতি' দেখা গেছে, তার পেছনে রয়েছে কোটি টাকার গোপন চুক্তি। শিক্ষক নেতা ও মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ‘ম্যানেজড’ প্রাথমিক তালিকা তৈরির অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয় খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়েই।

আরও পড়ুন: এমপিওভুক্তির উদ্যোগ কোটি টাকার চুক্তিতে, তালিকা প্রস্তুত ‘গোপনে’

মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, নন-এমপিও স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত করার জন্য শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিশাল অংকের চুক্তি হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বিতীয় দফা আন্দোলনের সময় এই চুক্তির গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকায় স্থান দিতে অগ্রিম হিসেবে মোটা অংকের নগদ অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি হোয়াটসঅ্যাপে তালিকা আদান-প্রদান এবং অত্যন্ত গোপনে সমন্বয় করা হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে।

মন্ত্রণালয়ের ভেতরের কর্মকর্তাদের একাংশই প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই তালিকা কি যোগ্যতার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে নাকি কোটি টাকার চুক্তিতে? তড়িঘড়ি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানোর পেছনে বড় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

এমপিওভুক্তির মতো একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়ায় এবং দুর্নীতির অভিযোগগুলো জোরালো হওয়ায় সরকার শেষ পর্যন্ত এই কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত অপেক্ষমাণ কয়েক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাগ্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

এমপিও যাচাই-বাছাই কমিটির আহবায়ক অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সফটওয়্যারের মাধ্যমে সবকিছু প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে মন্ত্রণালয়ের কারো সুপারিশ করার সুযোগ নেই। সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্দিষ্ট ডাটা বিশ্লেষণ করে নম্বর দিয়েছে। সেই নম্বরে যারা এগিয়ে রয়েছে তাদের প্রাথমিকভাবে তালিকায় রাখা হয়েছে। এটি আরও যাচাই-বাছাই হবে।’