প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ায় অপহরণ, ১০ দিন ধরে নিখোঁজ কলেজছাত্রী

দিগপাইত শামসুল হক ডিগ্রি কলেজ
দিগপাইত শামসুল হক ডিগ্রি কলেজ

জামালপুরে অপহরণের ১০ দিন পরও খোঁজ মেলেনি কলেজছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া তানজিনার। অপহৃত তানজিনা জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের জোয়ানেরপাড়ার এখলাসুর রহমানের মেয়ে। তিনি দিগপাইত শামসুল হক ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। স্বজনদের আশঙ্কা অপহরণের পর তাকে হত্যা কিংবা গুম করা হতে পারে। মামলার আসামিরা হলেন- একই ইউনিয়নের গান্দাইল এলাকার সফির উদ্দিনের বখাটে ছেলে সাঈদ হাসান সিয়াম, তার মা জেসমিন আক্তারসহ ছয়জন।

জানা গেছে, তানজিনাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল সিয়াম। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠে সিয়াম। এরপর সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় সে। এরপর হুমকি দেয় তানজিনার পরিবারকে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্যরা সিয়াম ও তার পরিবারকে সতর্ক করেন। এতে সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ৩ জানুয়ারি সকালে সিয়াম ও তার মাসহ ছয়জন তানজিনাকে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৫ জানুয়ারি জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন তানজিনার বাবা এখলাছুর রহমান। ঘটনার ১০ দিন পরও উদ্ধার করা যায়নি তাকে। এরই মধ্যে কৌশলে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছে ছয় আসামির মধ্যে তিনজন। প্রধান আসামি সাঈদ হাসান সিয়ামসহ বাকিরা এখনো পলাতক।

তানজিনার বাবার অভিযোগ, মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। দ্রুত তানজিনাকে উদ্ধার করতে না পারলে অপহরণকারীরা তাকে হত্যা ও গুম করে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই মো. আব্দুল আলিম জানান, মামলার তিন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। জামিনের পর বাদীকে হুমকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রধান আসামি সিয়ামসহ বাকি তিনজনকে গ্রেফতার ও অপহৃত তানজিয়াকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ