১১ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৩৭

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা  

অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ওরফে শান্ত  © সংগৃহীত

নেত্রকোনায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার  (১১ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম।

ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার হাজী আব্দুল হামিদ খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ওরফে শান্ত। আর ভুক্তভোগী একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম শান্তর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত শিক্ষক স্কুলের ছাদে শুঁটকি মাছ শুকাতে দিয়েছিলেন। পরে তা নিতে আসার জন্য ওইদিন দুপুরে শ্রেণিকক্ষ থেকে ভুক্তভোগীকে ডেকে ছাদে নিয়ে যান তিনি। পরে তিনি বিদ্যালয়ের সিঁড়ির উপর যেতেই একা পেয়ে সেখানে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান অভিযুক্ত শিক্ষক। এসময় তার চিৎকারে অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে সটকে পড়েন শিক্ষক। পরে বাড়িতে গিয়ে ওই ছাত্রী ঘটনাটি তার পরিবারের লোকজনকে জানায়।  

এ ঘটনায় ৫ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ছাত্রীর বাবা। পরে ৭ অক্টোবর থানায় লিখিত অভিযাগ দেন। তদন্ত শেষে সোমবার রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ওই ছাত্রী আদালতে হাজির হয়ে বক্তব্য দিয়েছে।

এদিকে ইউএনওর কাছে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সারোয়ার জাহানকে প্রধান করে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে তাদের বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম শান্ত একজন চরিত্রহীন লম্পট। তার মতো মানুষ শিক্ষকতা পেশায় থাকলে এই পেশার বদনাম হবে। কোনো ছাত্রীই নিরাপদ থাকবে না। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। যেন আর কোনো মেয়ে এভাবে নিপীড়িত না হয়।

আরও পড়ুন: পানি-বিদ্যুৎ ও খাবারের চরম সংকটে গাজাবাসী

স্থানীয় রংসিনপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবুল ফকির বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক শান্তর কুকীর্তি সকলের জানা। ২০১৮ সালে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষকাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী স্কুলে সকলের সামনে তাকে ঝাড়ু দিয়ে পিঠিয়েছিল। পরে ওই শিক্ষিকা মান সম্মানের ভয়ে বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যান।

একই গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার স্ত্রী একই স্কুলে চাকরি করেন। তারা স্কুলে না এসে নিজের কৃষি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বারবার ছাত্রীদের যৌন নিপীড়ন করে টাকা ও ভয় দেখিয়ে সকলের মুখ বন্ধ করে রাখে। সে আমাদের গ্রামের কলঙ্ক। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন বলেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সারোয়ার জাহানকে প্রধান করে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষক রফিকুল ইসলাম শান্তর স্ত্রী একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন্নাহার বলেন, আমি থাকা অবস্থায় আমার স্বামী এমন কাজ করবে এটাও আপনারা বিশ্বাস করছেন? জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আমাদেরকে ফাঁসাতে এমন মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আর সত্যি এমন ঘটনা করলে তো আমি নিজেই স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম।

কলমাকান্দা থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রী দুপুরে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এদিকে আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।