৩০ মার্চ ২০২২, ০৯:২৯

২ হাজার ৭৩১ পদে নিয়োগ পরীক্ষা কবে—যা বলছে রেলওয়ে

রেলওয়েতে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে  © ফাইল ফটো

বহু দিন ধরে নিয়োগ বন্ধ থাকায় রেলে জনবল সংকট প্রকট হয়েছে। এ অবস্থায় গত বছরের আগস্ট থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া শুরু করেছে রেলওয়ে। এ পর্যন্ত পাঁচটি পদে অন্তত ২ হাজার ৭৩১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি রেলওয়ে। তারিখ বা কীভাবে পরীক্ষা হবে, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়িনি কর্তৃপক্ষ।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট সহকারী লোকো মাস্টার পদে ২৮০ জনকে  নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ২৯ আগস্ট ৫৬০ জন সহকারী স্টেশন মাস্টার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় রেলওয়ে। এরপর গত ১৪ নভেম্বর পয়েন্টসম্যান পদে ৭৫২ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া খালাসি পদে ১ হাজার ৮৬টি ও গত জানুয়ারিতে ৫৩ জন গার্ড নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রেলওয়ে।

তবে পরীক্ষার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত নেওয়া হয়নি। কাদের মাধ্যমে পরীক্ষা হবে, তাও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এসব পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’ তবে কবে নাগাদ পরীক্ষা হতে পারে, তা জানাতে পারেননি রেলের মহাপরিচালক।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এমএন্ডসিপি) এ কে এম আব্দুল্লাহ আল বাকী এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে অনেক কাজ বাকি রয়েছে। একটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। জেলা থেকে লোক নিতে জেলা প্রশাসকদের অনুমতি লাগবে। সে অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এগুলো পাওয়া গেলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে কবে শুরু হবে, তা বলা যাচ্ছে না।’

আরো পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নতুন জনবল কাঠামো অনুযায়ী দুই অঞ্চলে মোট কর্মী দরকার ৪৭ হাজার ৬৩৭ জন। কিন্তু আছে ২৪ হাজার ৪৬৪ জন। ফলে রেলওয়েতে প্রায় ২৩ হাজার ১৭৩ জন লোকবল ঘাটতিতে রয়েছে। প্রতিটি স্টেশন চালু রাখতে একজন মাস্টার, দুজন সহকারী মাস্টার ও পয়েন্টম্যান তিনজনের দরকার হয়। দেশে ৪৮৪টি স্টেশনের মধ্যে চালু সাময়িক বন্ধ আছে ১১৬টি।

রেলের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে পাঁচ সদস্যেও নিয়োগ কমিটি রয়েছে। কমিটির একজন কর্মকর্তা বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সব দপ্তরে নিয়োগ পরীক্ষা চলছে। ফলে কেন্দ্র পাওয়াও চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। কেন্দ্র পেতেই দুই থেকে তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়। দ্রুত নিয়োগ পরীক্ষা না হওয়ার অন্যতম কারণ এটি।