২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:৩৯

প্রশ্নফাঁসের পরও অডিটর পরীক্ষার ফল প্রকাশ

চাকরিপ্রার্থী  © সংগৃহীত

প্রশ্নফাঁসের পরও প্রতিরক্ষা মহা হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ‘অডিটর’ পদের এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ রোববার (২৩ জানুয়ারি) এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ২০৭ জন।

৫৫০টি পদের বিপরীতে অডিটর পদে নিয়োগে শুক্রবার ৭০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হয়। ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর আগেই চাকরিপ্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নের দুইটি সেটের স্ক্রীণশট দিয়ে প্রশ্নফাঁসের দাবি তোলেন। যদিও ওই দুই প্রশ্নের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নের কোনো মিল ছিলো না। 

আরও পড়ুন- নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, ঢাবি শিক্ষার্থী-জনপ্রতিনিধিসহ গ্রেপ্তার ১০

পরে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে এই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত জনপ্রতিনিধিসহ ১০ জনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে গতকাল দুপুরে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনও করে ডিবি।

এসময় অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বাইরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আবার পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন- ‘অডিটর’ পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস!

তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের অধীন ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ৫৫০টি অডিটর পদে নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষা হয়। গতকাল বিকেল ৩টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭০ নম্বরের এমসিকিউ হয়। একে কেন্দ্র করে আগে থেকেই জালিয়াতি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি করে এনএসআই। ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে একপর্যায়ে একটি অসাধু চক্রের জালিয়াতির তথ্য পাওয়া যায়। পরে রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পরীক্ষার্থী প্রতি ১৪ থেকে ১৬ লাখ টাকার লিখিত চুক্তি হয়।

আরও পড়ুন- ব্যাংকের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: মূলহোতাসহ ২ আসামির স্বীকারোক্তি

গ্রেফতারকৃতরা- নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, মাহবুবা নাসরীন রুপা, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান।

তাদের কাছ থেকে ছয়টি ইয়ার ডিভাইস, ছয়টি মাস্টার কার্ড মোবাইল সিম হোল্ডার, পাঁচটি ব্যাংকের চেক, সাতটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১০টি স্মার্ট ফোন, ছয়টি বাটন মোবাইল, ১৮টি প্রবেশপত্র এবং ফাঁস হওয়া তিন সেট প্রশ্নপত্র জব্দ করা হয়। এদিকে ফল প্রকাশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।