নি:সঙ্গতাই আত্মহত্যার মূল কারণ
যখন কেউ একা থাকে তখন হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে এবং এ হতাশার বিষয়টি কারও সঙ্গে শেয়ার করতে না পারে, তখন এ বিষয়টি আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। তাছাড়া, প্রেমঘটিত জটিলতা, পরীক্ষায় কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থতা, মাদকাসক্তি, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক চাপ, মানসিক চাপ, বেকারত্ব, প্রভৃতিও আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এ সমস্যা সমাধানে নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার পাশাপাশি নানান সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজেও জড়িত থাকতে পারে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ অডিটোরিয়ামে এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘আমি, আপনি বা আমরা-একসঙ্গে বদলে দিতে পারি আত্মহত্যার ভাবনা’ শীর্ষক এ কর্মশালার আইডল ফোকাস। এ কর্মশালায় রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কয়েশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সানি সানোয়ার, প্রভিটা গ্রুপের হেড অব এইচআর মো. জাহাঙ্গীর নবী এবং আইডল ফোকাসের প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব কান্তি দাস। কর্মশালায় বক্তব্যে রাখেন তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুর রশিদ এবং মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মাহবুবা বেগম।
মো. সানি সানোয়ার বলেন, যেকোন ঘটনার একটি ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি থাকে। আত্মহত্যার ক্ষেত্রেও সেটি হয়ে থাকে। আত্মহত্যার পেছনে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা, মানসিক চাপ, বেকারত্ব প্রভৃতি কারণ থাকে। আর তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা আত্মহত্যা করে থাকে মূলত দুটি কারণে-প্রেমঘটিত জটিলতা এবং পরীক্ষায় কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, এসব কারণে যখন কেউ হতাশ হয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগে তখন আত্মহত্যার পথা বেঁচে নিচ্ছে। আমরা সম্প্রতি এরকম দুটি ঘটনা দেখেছি-চটগ্রামে এক ডাক্তারের আত্মহত্যা এবং সম্প্রতি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় মারা যাওয়া পলাশ।
মো. জাহাঙ্গীর নবী বলেন, একাকিত্ব থেকে আত্মহত্যা প্রবণতা বাড়ে। তাই আমাদের সব সময় কোন না কোন কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে। অবসরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজেও জড়িত থাকা যায়। তাছাড়া অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারেন, সিনেমা দেখতে পারেন কিংবা কোথাও ঘুরতেও যেতে পারেন। তবে এ অভ্যাস একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
মাহবুবা বেগম বলেন, তরুণদের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হতে পারে। দেশে এ ধরণের অনেক সংগঠন রয়েছে।