মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে এখানেই গুলি করতে হবে
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমারকেই আসল পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন হলিউড তারকা ও জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তিনি বলেন, ‘তারা (রোহিঙ্গা) এখনই নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন না। কারণ সেখানে (রাখাইন) সে পরিবেশ নেই। তাদের ফেরানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর সে দায়িত্ব মিয়ানমারের।’
মঙ্গলবার বিকালে উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদশর্ন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তজাির্তক খ্যাতিসম্পন্ন এ অভিনেত্রী এ কথা জানান। এর আগে হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে ধর্ষিতা এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, ‘আমাকে ফেরত পাঠানোর আগে এখানেই গুলি করতে হবে।’এ সময় ধর্ষিতা রোহিঙ্গা অনেক নারীর সাথে কথা বলেন হলিউডের এই অভিনেত্রী। তখন অনেক নারী রাখাইনে ফিরে যাবে না বলে জানান। খবর-বিবিসি’র
জোলি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা তাদের ভিটামাটি হারা। তারা অনেক কিছুই হারিয়েছে। তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে পুনবার্সন করতে হবে মিয়ানমার সরকারকেই।’ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার এ অভিনেত্রী সবসময় রোহিঙ্গাদের পাশে আছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান।
এর আগে সকালে উখিয়ার কুতুপালং ডি ব্লকসহ চারটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদশর্ন করেন এই হলিউড সুপারস্টার। সেখানে রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান তিনি। পরে রাখাইনে নিযার্তনের শিকার হয়ে প্রাণে বেঁচে আসা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের কাছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের গল্প শোনেন।
গত সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এদিন তিনি টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদশর্ন করেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের মুখে বর্মি বাহিনীর নৃশংসতার বয়ান শোনেন।
২০১৭ সালে বড় আকারে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হলে রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন জোলি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এর আগে অন্তত চারবার তার বাংলাদেশ সফর বাতিল করা হয়। এবার পঁাচদিনের সফরে এসেছেন তিনি। এর আগে গত বছরের ২১ মে জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদশর্ন করেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।