লাল মাটির গ্রহে প্রথম বাসিন্দা হবেন ১৭ বছরের যে কিশোরী
এলিজা কার্সন। বয়স সতেরোর কোঠায়। এ বয়সের ছেলে-মেয়েদের স্কুলের গণ্ডি পার করে কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন। বন্ধু বান্ধব নিয়ে হইহুল্লোড় করে সময়টা পার করার নেশায় বিভোর থাকে সবাই। কিন্তু এলিজার স্বপ্ন অন্যদের থেকে একটু না অনেকটা দুঃসাহসিক। পৃথিবী থেকে মিলিয়ন মাইল দূরের ভিন্ন গ্রহের নাগরিক হওয়ার নেশায় মত্ত এলিজা।
২০০১ সালের ১০ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা রাজ্যের হ্যামন্ডে জন্ম দুঃসাহসী মঙ্গল গ্রহের প্রথম অধিবাসী হতে যাওয়া এলিজার। তার পিতা বার্ট কার্সন বলেন, টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ‘মিশন টু মাস’ প্রোগ্রাম দেখে এলিজা লাল ভূমির দেশ মঙ্গল গ্রহের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। তাতে পিতৃত্বের দায়বদ্ধতা থাকলেও মেয়ের দুঃসাহসী স্বপ্নে প্রাচীর হয়ে দাঁড়াননি। এলিজার বয়স যখন তিন বছর তখন থেকে নিজের সাথে লাল মাটির দেশকে জড়িয়ে পেলে।
১২ বছর বয়সে মঙ্গল গ্রহে অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘মার ১০’এর প্যানেল আলোচক হিসেবে নির্বাচিত হন। এ সময় এলিজা মঙ্গল গ্রহকে নিজের দেশ ‘হোম’ বলে সম্বোধন করেন। ১৬ বছর বয়সে সে সর্বকনিষ্ঠ নভোচারী হিসেবে নিয়োগ পান। আর সুযোগ পেয়ে যান স্বপ্নের লাল মাটির দেশে পাড়ি জমার হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ লাভের। অতপর তিনি অ্যাডভান্স পোজাম অ্যাকাডেমিতে ‘প্রজেক্ট পোলার সাব-অরবিটাল সায়েন্স ইন দ্য আপার মেসোসপেয়ার (পোজাম)’ এ স্নাতকে ভর্তি হন। মহাকাশ গবেষণায় তার আগ্রহের কমতি নেই কোন অংশেই। সমস্ত অবস্থা অনুকূল হলে সে হবে ২০৩৩ সালে মঙ্গলে যাওয়া পৃথিবীর প্রথম মানুষ। আর মঙ্গল গ্রহের মাটিতে প্রথম পা রাখার সৌভাগ্যবতী।
এত অল্প বয়সে এ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এলিজাকে রিক্রুট করা নিয়ে প্রশিক্ষকের মন্তব্য ছিল, ‘অল্প বয়সে এ প্রশিক্ষণ নেয়া সত্যি ঝুঁকিপূর্ণ, তারপরও এলিজার দক্ষতা ও যোগ্যতা ছিল প্রশংসনীয়।
পোজামের মহাকাশ গবেষক এলিজার সাহসিকতা নিয়ে বলেন, ‘ এ বয়সে মহাকাশ যানে ঘুরে বেড়ানো বা ভিন্ন গ্রহে যাওয়ার ইচ্ছা থাকাটা স্বাভাবিক। তবে এলিজা ইতোমধ্যে বিশ্ব নাগরিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। যা সবার নজর কেড়েছে। সে চাইনিজসহ বিভিন্ন ভাষায় যোগাযোগ করতে পারে। এছাড়া তার বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী, আমরা তার বয়সী তরুণদের উৎসাহিত করতে এ সুযোগ দিচ্ছি।