২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৮

ইরানকে চুক্তির সময় বেঁধে দিলেন ট্রাম্প, না মানলে হামলার হুমকি

ডোনাল্ড ট্রাম্প  © সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মধ্যেই ইরানকে নতুন পরমাণু চুক্তির জন্য ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না পৌঁছালে দেশটিতে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

পেন্টাগন ও মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন বর্তমানে এমন সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যে, চাইলে চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের অভিযান চালানো সম্ভব।

গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে কোনো চুক্তি হচ্ছে কি না। গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো আরও এক ধাপ এগোতে হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যদিও তেহরান শুরু থেকেই এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরি, ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং অর্ধশতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া বি-২ বোমারু বিমানকে উচ্চ সতর্কতায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত ট্যাংকার পাঠিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। গত মাসে প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের মাধ্যমে নিজেদের আটটি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন, যা ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় সক্ষম।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলও। সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, দেশটির সামরিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় করতে কয়েক দিনের তীব্র হামলার একটি পরিকল্পনাও তাদের হাতে রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বাধলে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।