০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭

রেকর্ড তুষারপাতের মধ্যেও জাপানে ভোট গ্রহণ শুরু, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে উন্মুখ তাকাইচি

জাপানে নির্বাচন   © সংগৃহীত

রেকর্ড তুষারপাত ও তীব্র শীতের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই জাপানের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে আজ রোববার। এই আগাম (স্ন্যাপ) নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) হয়ে বড় জয়ের প্রত্যাশা করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

তিনি আশা করছেন, এই বিজয় তাকে দেশের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো উচ্চাভিলাষী রক্ষণশীল রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে শক্তিশালী ম্যান্ডেট দেবে। গত সাত দশকের অধিকাংশ সময় জাপানের ক্ষমতায় থাকা এলডিপি সম্প্রতি বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে চাপে থাকলেও তাকাইচি তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে চাইছেন।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে তাকাইচির এলডিপি এবং তাদের সহযোগী দল ‘জাপান ইনোভেশন পার্টি’ বড় ব্যবধানে জয়ী হতে যাচ্ছে। জরিপ বলছে, এই জোট ৩০০টির মতো আসন পেতে পারে, যেখানে এলডিপি এককভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধী দলগুলো নিজেদের মধ্যে বিভক্ত থাকায় তারা বড় কোনো চ্যালেঞ্জ গড়তে পারছে না। তবে প্রধানমন্ত্রী এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ঝুঁকিও নিয়েছেন। নির্বাচনের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যদি এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়, তবে আমি পদত্যাগ করব’।

তাকাইচি তার ডানপন্থি এজেন্ডার অংশ হিসেবে জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিরক্ষা নীতি সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা জাপানের আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। তার এই অবস্থান জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে বড় ধরনের সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জোটের শরিক জেআইপি নেতা হিরোফুমি ইয়োশিমুরা বলেছেন, তার দল এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘গতিবর্ধক’ হিসেবে কাজ করবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় সানায়ে তাকাইচি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং অভিবাসন নীতি কঠোর করার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনা এবং বিদেশি বাসিন্দাদের সংখ্যার ওপর সীমা নির্ধারণের মতো কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন তিনি। জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ‘কাজ, কাজ এবং কাজ’ করার প্রতিশ্রুতি তরুণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটানোর তহবিল বা চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনার মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।

মাঠপর্যায়ের ভোটারদের মধ্যে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নতির প্রত্যাশা দেখা গেছে। ৫৪ বছর বয়সী ভোটার কাজুকি ইশিহারা বলেন, ‘আমার আশা আছে যে তিনি এমন কিছু করতে পারবেন যা তার পূর্বসূরিরা করতে পারেননি’। আবার সাধারণ অফিসকর্মীদের মধ্যে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ভোটগ্রহণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের রেকর্ড তুষারপাতে দেশজুড়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় অনেক এলাকায় ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে বা ভোট গণনায় বিলম্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।