০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৫

সীমিত পরিসরে রাফাহ সীমান্ত খুলে দিল ইসরায়েল

রাফা সীমান্ত  © সংগৃহীত

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্ত সীমিত পরিসরে পুনরায় খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় অক্টোবর মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।

এর ফলে গাজায় আটকে পড়া ফিলিস্তিনিরা যেমন বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, তেমনি যুদ্ধের শুরুতে পালিয়ে যাওয়া বাসিন্দারাও পুনরায় সেখানে ফিরতে পারবেন। তবে ইসরায়েলি এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় তদারকি দলগুলো ইতিমধ্যেই সীমান্তে পৌঁছেছে এবং এটি 'এখন বাসিন্দাদের আসা-যাওয়ার জন্য উন্মুক্ত।' যদিও যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইসরায়েল এবং মিশর উভয় দেশই কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি ও যাত্রী সংখ্যার ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করে রেখেছে।

২০২৪ সালের মে মাসে গাজা যুদ্ধের প্রায় নয় মাস চলাকালে এই সীমান্তটি দখল করে নিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। বর্তমান শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি খুলে দেওয়া হলেও বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই উপত্যকায় সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও গাজায় মানবিক সহায়তাকর্মী এবং জাতিসংঘ কর্মীদের যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে স্বাধীন সাংবাদিকতার সুযোগ না থাকায় তথ্যের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি চেয়ে করা একটি আবেদন বর্তমানে বিবেচনা করছে, যদিও সরকারের দাবি এতে সৈন্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ফিলিস্তিনি গাজা ছেড়ে পালিয়েছেন এবং বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ধ্বংসস্তূপের মাঝে তাবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজার শাসনভার একজন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটের হাতে তুলে দেওয়া, হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে অক্টোবর মাসে চুক্তি হলেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। 

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৫০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং চারজন ইসরায়েলি সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন। গত শনিবারও গাজায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় তারা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ফলে স্থায়ী শান্তির পরিবর্তে পরিস্থিতি পুনরায় বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।