পানামা খালের বন্দরে চীনের নিয়ন্ত্রণ অসাংবিধানিক: পানামার আদালত
পানামার সুপ্রিম কোর্ট চীনা প্রতিষ্ঠান সিকে হাচিসন দ্বারা পরিচালিত পানামা খালের বন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণ চুক্তিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষিত এই রায়ে আদালত জানিয়েছে, পানামা পোর্টস কোম্পানির (পিপিসি) সাথে দুটি বন্দর টার্মিনাল উন্নয়ন, নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রের যে চুক্তি ছিল, তা দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। খবর আল জাজিরা।
এই রায়টি এমন এক সময়ে এলো যখন এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যকরভাবে চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটি একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি। সিকে হাচিসন-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি ৯০-এর দশক থেকে পানামা খালের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দিকের বালবোয়া এবং আটলান্টিক দিকের ক্রিস্টোবাল কনটেইনার বন্দর দুটি পরিচালনা করে আসছিল, যা ২০২১ সালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের মাধ্যমে আরও ২৫ বছরের লাইসেন্স পেয়েছিল।
২০২৫ সালের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর পানামাকে চীনা প্রভাব কমাতে এবং খালের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাপ দেন। খালটি যুক্তরাষ্ট্র নির্মাণ করলেও ১৯৯৯ সালে তা পানামার কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়।
গত বছর পিপিসি-র চুক্তি বাতিলের জন্য দায়ের করা মামলায় অভিযোগ ছিল যে, চুক্তিগুলো অসাংবিধানিক আইনের ওপর ভিত্তি করে করা এবং কোম্পানিটি যথাযথ কর পরিশোধ করছে না। প্রতিষ্ঠানটির ওপর পরিচালিত একটি নিরীক্ষায় দেখা যায়, চুক্তি নবায়নের পর থেকে পানামার প্রায় ৩০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে এবং মূল ২৫ বছরের চুক্তির সময়কালে এই ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১২০ কোটি ডলার। এই রায়ের ফলে পানামা বন্দর পরিচালনার আইনি কাঠামো পুনর্গঠন এবং নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে বাধ্য হতে পারে।
পিপিসি এই আদালতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'নতুন রায়টি... আইনি ভিত্তির অভাব রয়েছে এবং এটি কেবল পিপিসি এবং এর চুক্তিকেই নয়, বরং হাজার হাজার পানামীয় পরিবারের স্থিতিশীলতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বন্দর কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল।'
চীনও এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, 'চীনা কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় চীনা পক্ষ সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।' গত বছর ট্রাম্পের হুমকির পর সিকে হাচিসন তাদের পানামীয় টার্মিনালসহ বিশ্বজুড়ে ডজনখানেক বন্দর ২৩০০ কোটি ডলারে ব্ল্যাকরক-এর নেতৃত্বাধীন একটি মার্কিন কনসোর্টিয়ামের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিলেও চীনা সরকারের আপত্তির কারণে তা থমকে যায়।
পানামার প্রতি ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ভেনেজুয়েলা এবং গ্রিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছে যে তারা দুই আমেরিকায় (উত্তর ও দক্ষিণ) তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন সেনারা ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, 'পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার আধিপত্য নিয়ে আর কখনও প্রশ্ন তোলা হবে না।'