ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণ করতে পারবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরা, ১৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ
যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই ব্যবসা কিংবা পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের অনুমতি দিতে চীন সম্মত হয়েছে বলে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়েছে।
বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বৈঠকের পর ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা এবং বিনিয়োগসহ একগুচ্ছ চুক্তি ও সমঝোতার ঘোষণা আসে। এই সফরের উল্লেখযোগ্য চুক্তির মধ্যে ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা ২০৩০ সাল পর্যন্ত চীনে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যার আওতায় দেশটিতে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন এবং জনবল বাড়ানো হবে।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের ওই বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করতে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে ব্রিটিশ সরকার।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে কাজ করার পথ খুঁজে বের করাই তাঁর লক্ষ্য এবং এ জন্য ‘আরও খোলামেলা ও সরাসরি’ আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। অপরদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের মধ্যে ‘উত্থান-পতন’ থাকলেও পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা এখন ‘অনিবার্য।’
ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা কবে থেকে কার্যকর হবে তার নির্দিষ্ট তারিখ জানানো না হলেও ব্রিটিশ সরকার এটি যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা হুইস্কির ওপর শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশে নামাতে চীন সম্মত হয়েছে। অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো মানবপাচারকারী চক্রগুলো চ্যানেল পার হতে যে ছোট চীনা নৌকার ইঞ্জিন ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে সেগুলোর সরবরাহ বন্ধ করা।
ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, গত বছর এই চক্রগুলোর ব্যবহৃত ইঞ্জিনের ৬০ শতাংশেরও বেশি ছিল চীনে তৈরি। এই চুক্তিটি যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে সই হওয়া মোট ১০টি চুক্তির একটি, যেখানে রপ্তানি, শিক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
আট বছর পর প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমারের এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইউক্রেন ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে ন্যাটোর অন্য দেশগুলোর মতভেদ দেখা যাচ্ছে।
তবে এই সফর নিয়ে যুক্তরাজ্যে সমালোচনাও উঠেছে; সমালোচকদের মতে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। শ্যাডো হোম অফিস মন্ত্রী অ্যালিসিয়া কিয়ার্নস অভিযোগ করেছেন, গণতন্ত্রপন্থী ব্যবসায়ী জিমি লাইয়ের মুক্তির বিষয়ে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর চীনে যাওয়া উচিত হয়নি।