২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৯

ভারতে বিমান দুর্ঘটনা: মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিহত

ভারতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার  © সংগৃহীত

ভারতে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় ভারতীয় জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান ও মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার সকালে ৮টা ৪৫ মিনিটে বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারান তিনি।

একই দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট ও পওয়ারের নিরাপত্তাকর্মীসহ বিমানে থাকা মোট পাঁচজন যাত্রীই নিহত হয়েছেন বলে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে।

জানা যায়, অজিত পওয়ারকে বহনকারী বিমানটি ভিএসআর কোম্পানির পরিচালিত একটি লিয়ারজেট ৪৫ ছিল। একই ধরনের একটি বিমান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মুম্বাইয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

এনডিটিভি জানায়, স্থানীয় নির্বাচনের আগে চারটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় যোগ দেয়ার কথা ছিল পওয়ারের। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া দৃশ্যে আগুন ও ধোঁয়া, বিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

৬৬ বছর বয়সী অজিত পওয়ার ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শরদ পওয়ারের ভাতিজা এবং লোকসভা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের চাচাতো ভাই।
শরদ পওয়ার ও সুপ্রিয়া সুলে সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নিতে দিল্লিতে ছিলেন, তারা শিগগিরই পুনে যাচ্ছেন।

জানা যায়, প্রিথ্বীরাজ চাভান, উদ্ধব ঠাকরে, একনাথ শিন্ডে এবং দেবেন্দ্র ফড়নবিস এ চারজন মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অজিত পওয়ার।

২০২৩ সালে তিনি এনসিপিতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। এর ফলে দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। তিনি একাংশের নেতৃত্ব নেন এবং অন্যটির নেতৃত্ব পান শরদ পওয়ার। পরে অজিত পওয়ার এনডিএ সরকারে যোগ দেন এবং উপমুখ্যমন্ত্রী হন।
সম্প্রতি এনসিপির পুনর্মিলনের আলোচনা চলছিল এবং দুই পক্ষ একসাথে পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। তবে এনসিপি নেতৃত্ব, পওয়ার পরিবার এবং মহারাষ্ট্র সরকার কেউই এখন পর্যন্ত এ দুর্ঘটনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অজিত পওয়ারের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, শ্রী অজিত পওয়ারজি ছিলেন জনগণের নেতা, যার ছিল শক্তিশালী তৃণমূল সংযোগ। তিনি মহারাষ্ট্রের মানুষের সেবায় অগ্রভাগে থাকা এক পরিশ্রমী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ব্যাপকভাবে সম্মানিত ছিলেন।
মোদি বলেন, ‘‘প্রশাসনিক বিষয়ে তার জ্ঞান এবং দরিদ্র ও অবহেলিতদের ক্ষমতায়ণের প্রতি তার আবেগও উল্লেখযোগ্য ছিল। তার অকাল মৃত্যু অত্যন্ত শোকাবহ ও দুঃখজনক। তার পরিবার ও অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা।’’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ খবর পেয়ে পুনে রওনা হয়েছেন। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি গভীরভাবে ব্যথিত। মহারাষ্ট্রের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের কল্যাণে অজিত পওয়ারজি যেভাবে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তাঁর মৃত্যু আমার জন্য ব্যক্তিগত ক্ষতি।”

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “দীর্ঘ জনজীবনে তিনি মহারাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। তিনি মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং জনসেবার প্রতি তাঁর অটল নিষ্ঠার জন্য পরিচিত ছিলেন। আমি তাঁর পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।”

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, অজিত পওয়ারের মৃত্যু সংবাদ ‘গভীরভাবে শোকাবহ ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’ তিনি বলেন, ‘এটি এক অকাল ক্ষতি, যাঁর দীর্ঘ ও প্রতিশ্রুতিশীল রাজনৈতিক জীবন সামনে ছিল। এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবার যে গভীর দুঃখের মধ্যে রয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি পুরো পওয়ার পরিবার, তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’