১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ
ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোর পৃষ্ঠপোষকতায় শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে রক্ষা করতে ফরাসি আইনপ্রণেতারা গতকাল মঙ্গলবার একটি বিল পাস করেছেন, যার মাধ্যমে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতভর দীর্ঘ আলোচনার পর মঙ্গলবার ফ্রান্সের নিম্নকক্ষ ‘ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি’ ১৩০-২১ ভোটে বিলটি গ্রহণ করে। আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে এটি এখন উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো এই ভোটকে ফরাসি শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় একটি ‘বিরাট পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত মাসে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার পর ফ্রান্স হবে দ্বিতীয় দেশ যারা এমন পদক্ষেপ নিল। এই আইনে হাইস্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধানও রাখা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বেড়েছে যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং আসক্তিকর ‘অ্যালগরিদম’ শিশুদের বিকাশে বাধা দিচ্ছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাচ্ছে। শনিবার এক ভিডিও বার্তায় ম্যাক্রো বলেন, ‘আমাদের শিশু-কিশোরদের আবেগ আমেরিকান প্ল্যাটফর্ম বা চীনা অ্যালগরিদমের কাছে বিক্রি বা কারসাজি করার জন্য নয়।’
বাস্তবায়ন যেভাবে
কর্তৃপক্ষ চায় আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই নতুন অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর করতে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল আশা প্রকাশ করেছেন যে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সিনেট বিলটি পাস করবে। তিনি আরও জানান, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাবে এমন সব পুরনো অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার জন্য যেগুলো বয়সসীমা মেনে চলছে না।
ইউরোপীয় কমিশনের অবস্থান
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের অধিকারকে সমর্থন করলেও ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ইইউর ওপর নির্ভর করবে, যদি বিলটি জোটের আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়। কমিশনের মুখপাত্র থমাস রেগনিয়ার জানান, প্ল্যাটফর্মগুলো যাতে সঠিক ‘এজ-ভেরিফিকেশন’ বা বয়স যাচাইকরণ টুল ব্যবহার করে তা নিশ্চিত করা ইইউর দায়িত্ব হবে।
উদ্বেগ ও সমালোচনা
ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই মাসে জানিয়েছে যে, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রামের মতো মাধ্যমগুলো কিশোর-কিশোরীদের, বিশেষ করে মেয়েদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে সাইবার বুলিং এবং সহিংস কন্টেন্ট দেখার ঝুঁকি অন্যতম। তবে এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনাও রয়েছে। কট্টর বামপন্থী ‘ফ্রান্স আনবোড’ পার্টির একজন এমপি এটিকে ‘ডিজিটাল অভিভাবকত্ব’ এবং প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবের বিপরীতে একটি ‘অতিরিক্ত সরল সমাধান’ বলে অভিহিত করেছেন। এ ছাড়া নয়টি শিশু সুরক্ষা সংস্থা আইনপ্রণেতাদের অনুরোধ করেছে যাতে শিশুদের নিষিদ্ধ না করে বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হয়।
সূত্র: ডন