গ্রীনল্যান্ডে পেঙ্গুইনের সঙ্গে হাঁটছেন ট্রাম্প, এআই ছবি প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস
আর্কটিক অঞ্চলের দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা জোরালো হচ্ছে, তখন হোয়াইট হাউস একটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি প্রকাশ করে এই প্রচারণাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই প্রতীকী ছবিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ডের বরফঢাকা পথে একটি পেঙ্গুইনের সঙ্গে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে। ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া ‘নিহিলিস্ট পেঙ্গুইন’ ট্রেন্ডের আদলে তৈরি এই ছবিতে পেঙ্গুইনটির হাতে আমেরিকার পতাকা এবং সামনের পাহাড়ে গ্রিনল্যান্ডের পতাকা শোভা পাচ্ছে, যা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলটির প্রতি ওয়াশিংটনের বিশেষ আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগেও ট্রাম্প এআই দিয়ে তৈরি আরেকটি ছবি শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তাঁকে জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিওসহ গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন পতাকা ওড়াতে দেখা যায়। মূলত গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পেছনে রয়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়া বা চীন এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিলে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে তাঁর এই পদক্ষেপ ন্যাটো সদস্যসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এই প্রচারণায় যুক্ত হওয়া ‘নিহিলিস্ট পেঙ্গুইন’ মূলত জার্মান নির্মাতা ভের্নার হারজগের ২০০৭ সালের একটি তথ্যচিত্রের দৃশ্য, যা বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ইন্টারনেট মিম হিসেবে পরিচিত।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে কানাডার কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ডের ওপর দিয়ে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের বিরোধিতার প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘কানাডা গ্রিনল্যান্ডের ওপর গোল্ডেন ডোম নির্মাণের বিরোধী, যদিও এই ডোম কানাডাকেও সুরক্ষা দেবে। উল্টো তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার পক্ষে ভোট দিয়েছে, যারা প্রথম বছরের মধ্যেই তাদের গিলে খাবে!’ এর মাধ্যমে তিনি অটোয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার দেওয়া নিরাপত্তার চেয়ে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
বর্তমানে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের সুরে কিছুটা নমনীয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা আগে শুল্ক আরোপ বা সরাসরি দখলের হুমকির তুলনায় ভিন্ন। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও ন্যাটোর প্রতিনিধি দলগুলো সামনের দিনগুলোতে আলোচনা চালিয়ে যাবে।