২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৯

পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি  © টিডিসি ফটো

দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পরই পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে  আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি, ফলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে একটি আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নিজের জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে নিম্নকক্ষে বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে চাচ্ছেন তিনি। খবর বিবিসি।  

টোকিওতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এই সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি ‘জনগণকে সাথে নিয়ে জাপানের গতিপথ নির্ধারণ করবে।’ গত অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিপুল জনসমর্থন পাচ্ছেন। তবে তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকায় এই আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।

গত ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সানায়ে তাকাইচি সাধারণ মানুষের সরাসরি ম্যান্ডেট পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে নিজের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সানায়ে তাকাইচি কি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য? আমি সার্বভৌম জনগণের কাছে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য বলতে চাই।’ জাপানের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনে লড়াইয়ের জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। বর্তমানে এলডিপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা একটি নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে।

তাকাইচি জাপানে ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত এবং তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অর্থনৈতিক নীতি বা ‘অ্যাবেনোমিক্স’-এর আদলে বিশাল সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০১২ সালে আবের পর আর কোনো জাপানি প্রধানমন্ত্রী তার মতো এত জনপ্রিয় হতে পারেননি। তবে চীনের সামরিক তৎপরতা মোকাবিলায় রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেট এবং তাইওয়ান ইস্যুতে তার কঠোর মন্তব্য বেইজিংয়ের সঙ্গে টোকিওর কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিনি সম্পর্কের এক নতুন ‘স্বর্ণযুগ’ গড়ার পথে হাঁটছেন।

জনমত জরিপে তাকাইচির ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ থাকলেও তার দল এলডিপি সাধারণ মানুষের কাছে তেমন জনপ্রিয় নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার আগেই তাকাইচি নির্বাচনের মাধ্যমে এলডিপির ‘একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ নিশ্চিত করতে চান। যদিও এর আগে শিগেরু ইশিবা একই কৌশল অবলম্বন করে বড় পরাজয়ের মুখে পড়েছিলেন, যা তাকাইচির জন্য একটি সতর্কবার্তা। এছাড়া বিরোধী দলগুলোর নতুন শক্তিশালী জোট গঠন তার এই রাজনৈতিক বাজিতে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে তাকাইচি আশাবাদী যে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবেন।