১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৮

ইরানে বিক্ষোভ দমনে ‘রেডলাইন’ ঘোষণা আইআরজিসি’র; স্বাধীনতা এনে দিতে প্রস্তুত ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  © সংগৃহীত ছবি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি)। শনিবার এক বিবৃতিতে তারা বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে ‘রেডলাইন’ ঘোষণা করে জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা সেনাদের জন্য রেডলাইন এবং কোনোভাবেই এটি লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনী জনসম্পত্তি ও কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষায় তাদের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশ্যে নতুন বার্তা দিয়েছেন। আন্দোলনের ১৪তম দিনে শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান স্বাধীনতার দিকে এগোচ্ছে, সম্ভবত আগে তারা এমন স্বাধীনতার আশা করেনি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য দিতে প্রস্তুত।” ট্রাম্পের এই বার্তার পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে।

দুই সপ্তাহ আগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে এবং বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই ‘দাঙ্গা’ উসকে দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ‘দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করা হয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজার দৃশ্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত কয়েক ডজন আন্দোলনকারী প্রাণ হারিয়েছেন।

বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যাপকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পশ্চিম ইরানের এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোনে জানিয়েছেন যে, তার এলাকায় বিপ্লবী গার্ডস মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে। এদিকে দুই রাতের বিরতির পর শনিবার রাত থেকে তেহরানের রাস্তায় আবারও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের হেরাভি ও চিতগার এলাকায় কয়েকশ মানুষ জমায়েত হয়ে নির্বাসিত শাহ রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের মুখে এখন শোনা যাচ্ছে— “গাজা নয়, লেবানন নয়, আমার জীবন ইরানের জন্য।”