বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ

‘শাবিপ্রবির যৌক্তিক আন্দোলনকে সরকার বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে’

শাবিপ্রবি
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের অবস্থান কর্মসূচী   © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে কিন্তু তারপরও সরকারের টনক নড়ছে না। আমরা লক্ষ্য করছি তাদের যৌক্তিক আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এসে এ আন্দোলনকে সরকার নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আমরা তাদের এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে এখানে অবস্থান করছি; যাতে তারা নিজেদের একা মনে না করেন।’

আজ ২৫ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দুপুর ২টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অবিলম্বে ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সেখানে সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা এসব কথা বলেন। ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ সহ কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী।

আরো পড়ুনঃ ক্ষুধার কষ্ট, শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সবকিছুকে টেক্কা দিয়ে শিউলির এমবিবিএস পাস

সংগঠটির সভাপতি আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অর্থ সংগ্রহের জন্য যে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছিল সেটাও সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবাও বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখানে ছাত্ররা এই ভিসিকে চাচ্ছে না সেখানে কেন জোর করে তিনি এই পদে থাকতে চাচ্ছেন সেটাই আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এই সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব নিয়েও সমাধান করতে পারছেন না। তিনি বারবার শিক্ষার্থীদের ঢাকায় আসার আহ্বান করছেন। সমস্যা সমাধান না করে উল্টো তিনি বলছেন, ছাত্ররাই নাকি শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করছেন।

ঢাবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি নিয়ে বিন ইয়ামিন বলেন, আমরা হতাশ হয়ে যাই যখন শিক্ষক সমিতি থেকে বলা হয় যে, এই আন্দোলন থেকে তৃতীয় পক্ষ ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে। অথচ এই শিক্ষকদের উচিত ছিল শিক্ষার্থীদের উপর হামলা হওয়ার পরপরই তাদের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবাদ করা এবং এই সমস্যার সমাধান করা।

অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন বলেন, আমরা আজকে এই অবস্থান কর্মসূচি করতে চাইনি। কিন্তু শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যে চলমান আন্দোলন করে আসছে সে আন্দোলনে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনোরকম ইতিবাচক বার্তা না পাওয়াতে আমরা বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এখানে বসেছি। আমরা মনে করি যে, এই ভিসির অপসারণ হওয়ার আগ পর্যন্ত এবং শিক্ষার্থীদের উপর যে হামলা করা হয়েছে সে হামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে।

তিনি বলেন,আমাদের একটাই দাবি, তা হলো এই ভিসির অপসারণ। আমরা এও বলতে চাই যে, শিক্ষার্থীদের যে বিভিন্ন সাপোর্ট দেওয়া হতো, তাদের জন্য যে মেডিক্যাল টিম ছিল তা ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের যদি কোনো ধরনের বিপদ ঘটে তার দায় কিন্তু প্রশাসনকেই নিতে হবে। আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে আহ্বান করব যে, অতি দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে এই সৈরাচার ভিসির অপসারণ করুন এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন।

ঢাবি শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা জানি যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিল তাদের ডাইনিংয়ের সমস্যা নিয়ে , নেটওয়ার্ক সমস্যা নিয়ে কিন্তু হল প্রভোস্ট তাদের সেই দাবি না মানাতে শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের পদত্যাগের জন্য আন্দোলন করেছিল। কিন্তু দেখা যায় প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে সেখানকার ভিসি ফরিদ উদ্দিন শিক্ষার্থীদের উপর প্রথমে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ এনে শিক্ষার্থীদের উপর গুলি করান। এরই প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ভিসির প্রত্যক্ষ মদদে হামলার প্রতিবাদ করে এবং ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে যায়।

তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, প্রথমে প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই কিন্তু আজকে এই ধরনের একটা পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সে জায়গা থেকে যদি এখন ভিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় সেক্ষেত্রে এই আন্দোলন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যদি শারীরিক কোনো ক্ষতি হয় তাহলে ছাত্র অধিকার পরিষদ সারাদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।


x