সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের বিচার দাবি শিক্ষক সমিতির

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের বিচার দাবি শিক্ষক সমিতির
সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের বিচার দাবি শিক্ষক সমিতির  © সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় জড়িত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিদল। কুমিল্লার নানুয়া দিঘিরপাড়ের পূজামণ্ডপ ও ঠাকুরপাড়া রক্ষাময়ী কালীমন্দির এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সংঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় শিক্ষক সমিতির ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রথমে নানুয়া দিঘিরপাড় এলাকা পরিদর্শন করে। এরপর তাঁরা সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘিরপাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে অস্থায়ী পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়। ১৩ অক্টোবর সেখানে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে সংঘাত, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিদল প্রতিবাদ ও সংহতি জানাতে কুমিল্লায় আসে।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. রহমত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া, টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সদস্য চন্দ্রনাথ পোদ্দার প্রমুখ।

সমাবেশে শিক্ষক নেতারা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাঁরা এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে মানববন্ধন করবেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবেন।

সমাবেশে শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. রহমত উল্লাহ বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে এই নারকীয় তাণ্ডব মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে যারা যেভাবে জড়িত হোক না কেন, তাঁদের শাস্তি দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা হিন্দু নয়, মুসলিমও নয়। তারা মানবতাহীন। শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ লাফিফা জামাল বলেন, ‘এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক ঘটনা। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই।’ প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এ ঘটনায় মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছি আমরা। এটা বাঙালির আত্মপরিচয়ের ওপর আঘাত।’


মন্তব্য

x