রাবি ভর্তি পরীক্ষা

৩০ ভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন নিয়ে শঙ্কা

ভর্তি পরীক্ষা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক ৩০ ভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হবে। শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্ট হাউজ, গেস্ট হাউজ ও মেসে ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হতে পারে। বাকি ৩০ ভাগ শিক্ষার্থীকে আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতদের বাড়িতে থাকতে হবে। এ বছর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার জন। আগামী ৪ থেকে ৬ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, রাজশাহী শহরে ৬৫টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। সেখানে দুই হাজার মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা আছে। চলতি মাসের শুরুতে এসব হোটেলের রুমের বুকিং শেষ। এখন বন্ধু-বান্ধব অথবা স্বজনরা পরীক্ষার্থীদের একটা রুমের ব্যবস্থা করতে পারছে না। এ আবাসন সংকট নিরসনে শুক্রবার রাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে (রাসিক) প্রস্তুতি সভা হয়েছে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সভায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন জানান, প্রথমবারের মতো রাবির আবাসিক হলগুলো বন্ধ রেখে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই আবাসন সংকট দেখা দিতে পারে। এজন্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকদের রাখার জন্য বিভিন্ন ছাত্রাবাস, আবাসিক হোটেল, সরকারি রেস্ট হাউজ, গেস্ট হাউজ এবং কিছু বিকল্প ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। এসব স্থানে ৭০ ভাগ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে।

মেয়র লিটন আরও জানান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ পরীক্ষার্থীদের যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। যাতায়াতের জন্য বাস মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাবির বাসগুলো শহরে চলাচল করবে। রাজশাহী অভিমুখী ট্রেনগুলো রাবি স্টেশনে থামানোর জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে। খাবারের জন্য স্বনামধন্য হোটেল রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

রাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার জানান, এবার ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিদিন গড়ে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। শহরে প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। যে কোনো প্রয়োজনে আমরা তাদের পাশে থাকব। বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামেও ছাত্রদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। সরকারি রেস্ট ও গেস্ট হাউজে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান, ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরএমপির ট্রাফিক বিভাগ যানবাহন চলাচলে নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আবাসিক হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী মহানগর মেস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েতুর রহমান জানান, শহরের বিভিন্ন মেসে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এসব মেসে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় রাখা হবে।

নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সভায় রাবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর সুলতান-উল ইসলাম, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন, সচিব মশিউর রহমান, রাজশাহী বাসমালিক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান টিটো প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ