এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাচুর্য়াল সমাবর্তন

সমাবর্তন
ঢাবির সমাবর্তনে গ্রাজুয়েটদের ফটোসেশন  © ফাইল ফটো

মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ১৫ মাস যাবত বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রথাগত সমাবর্তন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সরকারি ও বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার গ্রাজুয়েট। আর মূল সনদপত্রের পরিবর্তে সাময়িক সনদপত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছে তাদের।

তবে সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রথমবারের মতো বিকল্প সমাবর্তনের আয়োজন করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ (এনএসইউ)। গত ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৩তম সমাবর্তন ভাচুর্য়াল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গতকাল শনিবার (১৯ জুন) দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ভাচুর্য়াল সমাবর্তনের আয়োজন করে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। বিশ্ববিদ্যালয়টির চতুর্থ সমাবর্তনে মোট ১ হাজার ৪৬৪ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

এবার তৃতীয় এবং দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ভার্চুয়াল সমাবর্তনের (গ্রাজুয়েশন সিরিমনি) আয়োজন করতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ)। আগামী ২৬ জুন এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইবিএ এর পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। বিবিএ, এমবিএ ও ইএমবিএর তিনশরও বেশি শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।

আইবিএ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতেও সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর চলতি বছরের শুরু দিকে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমলে আগামী ২৬ জুন রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আইবিএর ২০২০ সালের ‘গ্রাজুয়েশন সিরিমনি’ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে করোনার কারণে সে সময় সশরীরে এই আয়োজন করতে না পারলে অনলাইনে ওইদিন এটি করার কথা আইবিএ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল।

এদিকে, দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ও চলমান বিধিনিষেধ আরেক দফা বাড়ায় অনলাইনে ২০২০ সালের ‘গ্রাজুয়েশন সিরিমনি’ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয় আইবিএ কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে আজ রবিবার (২০ জুন) দুপুরে আইবিএ এর পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, করোনা মহামারির কারণে সবকিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে এই আয়োজনটি অফলাইনে করা সম্ভব নয়। তাই আমরা অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। করোনা মহামারি না থাকলে আমরা সশরীরে আয়োজন করতাম। 

আরও পড়ুন: দেশের প্রথম অনলাইন সমাবর্তন নর্থ সাউথে

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা কয়েকজন (শিক্ষক) এবং যারা স্বর্ণপদক পাবে তারা হয়তো সশরীতে উপস্থিত থাকবো। আর বাকি যাদের ডিগ্রি প্রদান করা হবে তারা অনলাইনে যুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানে তিনশরও বেশি শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে আইবিএ থেকে সমাবর্তনে অংশ নেয়াদের উদ্দেশ্যে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে চলমান লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর কারণে আগামী ২৬ জুন বেলা ৪টায় আইবিএর গ্রাজুয়েশন সিরিমনি-২০২০ অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে অনলাইনে সংযুক্ত হওয়ার লিংক প্রদান করা হবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে আইবিএ একটি। বাকি ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে স্নাতকের শিক্ষার্থী ভর্তি করালেও আইবিএতে স্বতন্ত্রভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকে। তাছাড়া সমাবর্তন অনুষ্ঠানও আলাদাভাবে আয়োজন করে আইবিএ কর্তৃপক্ষ।

তথ্যমতে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতির কাছে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে করোনা মহামারির মধ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তন আয়োজনের এই প্রস্তাবে সায় দেননি রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে উনার অনুপস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমতি প্রয়োজন হয়।

আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনও অনলাইনে!

এদিকে, করোনার পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল সমাবর্তন আয়োজন করার অনুমতি দেয় সরকার। গত ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪ হাজার ১৪ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে সনদ দেয়া হয়।

এদিকে, গতকাল দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের চতুর্থ সমাবর্তনে মোট ১ হাজার ৪৬৪ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৬ জনকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল এবং ১৩ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়।

এই পুরো অনুষ্ঠান দুটি হয়েছিল ভার্চুয়ালি। গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীরা বাসায় থেকে জুমের মাধ্যমে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: ভার্চুয়াল সমাবর্তন: সমাবর্তনের চেয়ে বেশি কিছু

প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ভার্চুয়াল সমাবর্তনের আয়োজন করে আসছে। যদিও বাংলাদেশে গত ৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভার্চুয়াল সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ