২৭ মার্চ ২০২১, ১৪:৫৫

পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতা অর্জনের পথ দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু: চবি ভিসি

  © টিডিসি ফটো

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। এছাড়া চবির বঙ্গবন্ধু চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পরে চবি উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী: বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার তাঁর বক্তব্যে মহাকালের মহানায়ক স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ত্রিশলক্ষ বীর বাঙালি, শহীদ জাতীয় চারনেতা ও ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বর্বর হায়েনাদের হাতে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যবৃন্দকে বিনম্র চিত্তে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত দু’লক্ষ জায়া-জননী-কন্যার প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন।

এছাড়া তিনি শহীদ জননী জাহানারা ইমামসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মাননীয় উপাচার্য উপস্থিত সকলকে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় ড. শিরীণ আখতার বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি হায়েনাদের পরাজিত করে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। আর এ অর্জনে বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধ করে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে যিনি অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি হলেন মহাকালের মহানায়ক স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একটি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতা অর্জনের যে পথ তিনি দেখিয়েছেন তা শুধু বাঙালি জাতির জন্য নয়; গোটা বিশ্বের নিপীড়িত-নির্যাতিত মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির পথ প্রদর্শক হিসেবে চির ভাস্বর হয়ে থাকবে।

তিনি জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভিশন ও মিশন সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে কাজ করার আহবান জানান।

উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দূরদর্শী সঠিক নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ, অভিনন্দন ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, আজকের দিনটি বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও পরম গৌরবের দিন।

ড. অনুপম সেন বলেন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম পাকিস্তানি শাসনের ২৩ বছরের শোষণ বঞ্চনা ব্রিটিশদের ১৯০ বছরের শোষণকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জিডিপি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বেশি থাকার পরেও শুধুমাত্র তৎকালীন শাসকদের বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত ছিল। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের এ সকল বৈষম্য থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে মুক্ত করতে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধু তাঁর সমগ্র জীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প-বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে বিশ্ব বাসীর কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেন, দেশের এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে শিঘ্রই বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে শামিল হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর শিক্ষার মান এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে; যা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশকে গোরবান্বিত করবে। তিনি দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধু হয়ে নিজেদের জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করার আহবান জানান। প্রফেসর ড. অনুপম সেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিতকরণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে কেক কাটেন। এ ছাড়াও কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাত ১২ টা ১ মিনিটে (২৫ মার্চ দিবাগত রাতে) বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা স্মৃতি স্তম্ভে বিএনসিসি কর্তৃক বিউগল বাজিয়ে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে স্বাগত জানানো হয় এবং প্রত্যুষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২৬ মার্চ ফজরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও ক্যাম্পাসস্থ সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং কেন্দ্রীয় মন্দির ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে চবির গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, কলেজ পরিদর্শক, প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির সদস্যবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, অফিসার সমিতি, কর্মচারি সমিতি, কর্মচারি ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সুধিবৃন্দ ।