২৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:২২

তৃতীয় বর্ষের বিড়ম্বনায় অনিশ্চিত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬তম (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) আবর্তন, তৃতীয় বর্ষের বিড়ম্বনায় এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বর্ষে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে চাকরির বয়স অতিক্রম হওয়াসহ ভবিষ্যতে নানান সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের শেষের দিকে ব্যাচটির তৃতীয় বর্ষের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৯ সালে শ্রেণী কার্যক্রম চলার মাঝেই অক্টোবর মাসে চূড়ান্ত পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। এর মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের কারণে প্রায় দুই মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হয়। ২০২০ সালের প্রথমার্ধেই অধিকাংশ বিভাগের শ্রেণি কার্যক্রম শেষ হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। আবার কিছু বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন দিলেও করোনাভাইরাসের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে ৪৬তম ব্যাচের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পর্যন্তই কাজ সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম একপ্রকার স্থবির। তবে প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে ৪৫ ব্যাচের (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) অনলাইন মাধ্যমেই স্নাতক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। যদিও ৪৬ ব্যাচের শ্রেণী কার্যক্রম ও পরীক্ষার নিবন্ধন ৪৫ ব্যাচের পূর্বেই সমাপ্ত হয়। প্রায় পঁচিশ মাস একই বর্ষে থাকলেও চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় তাঁরা চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষারত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই কোন উদ্যোগ।

শিক্ষার্থীরা জানান, সেশনজ্যামের ফলে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়ছেন তাঁরা। তাই দ্রুত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তাদের।

এ বিষয়ে ৪৬তম আবর্তনের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সবুজ শিকদার বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাবর্ষের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের স্নাতক শেষের দিকে হলেও আমরা এখনও তৃতীয় বর্ষ শেষ করতে পারিনি। যেহেতু করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি, তাই আমরা দ্রুত অনলাইন মাধ্যমে চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে তৃতীয় বর্ষ শেষ করতে চাই।’

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী এতদিনে আমাদের স্নাতক শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও তৃতীয় বর্ষের কোর্সই শেষ হয়নি। ফলে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা বিসিএস সহ বিভিন্ন চাকরীর পরীক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। যার মধ্যে তৃতীয় বর্ষের কোর্স শেষে ১১টি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। বিভাগগুলো হলো ইতিহাস, বাংলা, জার্নালিজম, লোকপ্রশাসন, নৃবিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, গণিত, পরিবেশ বিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান। আর ৫টি বিভাগ তাদের কোর্স শেষ করে চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন দেয়। বিভাগগুলো হলো সরকার ও রাজনীতি, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান, আইন ও বিচার, পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স, বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি।

এছাড়া ৬টি বিভাগ তাদের তৃতীয় বর্ষের কোর্স শেষ করেছে। বিভাগগুলো হলো প্রাণিবিদ্যা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আইআইটি, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ভূগোল ও পরিবেশ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম। এদিকে দর্শন, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব, ইংরেজি, প্রত্নতত্ত্ব সহ বেশ কিছু বিভাগের তৃতীয় বর্ষের কোর্স এখনও শেষ হয়নি।

এদিকে বিভাগগুলো তাদের পরীক্ষা নিতে চাইলেও প্রশাসনের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে না। এ বিষয়ে একাধিক বিভাগের সভাপতি জানান, পরীক্ষা নিতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমরা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া তা করতে পারছি না। যদি আমাদেরকে ইতিবাচক সাড়া দেয় তবে আমরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেব।

অন্যদিকে, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা চতুর্থ বর্ষের ক্লাস করতে চাইলেও আবেদন ছাড়া এবং বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন না শিক্ষকরা। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তাদের তৃতীয় বর্ষের কোর্স শেষ হলেও হয়নি চূড়ান্ত পরীক্ষা। এই করোনাকালের এক বছরে চতুর্থ বর্ষের ক্লাস করতে চাইলেও শিক্ষকরা আবেদন ছাড়া ক্লাস নিবেন না বলে জানান বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা ৪৫ ব্যাচের পরীক্ষা গ্রহণ করেছি। এখন আমরা অন্যান্য ব্যাচের পরীক্ষা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবো।’