১২ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৩২

চাকরির দাবিতে এবার প্রশাসনিক ভবন অবরোধ রাবি ছাত্রলীগের

চাকরি দেয়ার দাবি রাবির প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা  © টিডিসি ফটো

রাতভর আটকে রাখার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের তালা খুলে দিয়েছে ছাত্রলীগের চাকরিপ্রত্যাশীরা। তবে আজ মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে তারা। ছাত্রলীগ নেতারা জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো সমাধান না আসবে, ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। তবে মানবিক বিবেচনায় উপাচার্য ভবনের তালা খুলে দেয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

সেখানে অবস্থান নেয়া ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহাফুজ আল-আমিন বলেছেন, ‘আমরা আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত এখানে অবস্থান নেব। উপাচার্যের বাসভবন খুলে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক মারা গেছেন। ভিসি স্যার মর্মাহত, উনি জানাজায় যেতে পারেন। তাই মানবিক বিবেচনায় আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি।’

এর আগে সোমবার দুপুরে রেজিস্ট্রার দপ্তরে এডহক ভিত্তিতে জালাল নামের একজন প্রতিবন্ধীর চাকরি নিশ্চিত হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ছাত্রলীগের চাকুরিপ্রত্যাশীরা। সন্ধ্যায় তারা উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হন। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাকরিপ্রত্যাশী ও রাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাদেকুল ইসলাম স্বপন, বর্তমান কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াছ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় জনের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বাসভবনে সাক্ষাত করতে বাসভবনের ভেতরে যান।

তবে উপাচার্য বিশ্রামে থাকায় তিনি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করেননি। এসময় উপাচার্য তাদের চাকরি নিশ্চিতের বিষয়ে আস্বস্ত না করলে বাইরে এসে তারা উপাচার্যের ভবনে তালা ঝুঁলিয়ে দেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে প্রতিবন্ধী এক ছেলেকে চাকরি দেওয়ার জন্য। যেহেতু নিয়োগ বন্ধ, শিক্ষা মন্ত্রণালনের নির্দেশনা রয়েছে- তাই আমি সচিবকে জানিয়েছি। তিনি আমাকে নিয়োগ দিতে বলেছেন এবং নিয়োগ দিয়েছি। সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ নেতারা এসে চাকরি দাবি করে। আমি জানিয়েছি, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন আমি নিয়োগ দিতে পারবো না।’

এর আগে সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের গেটে ও ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন তারা। সেখানে আটকা পড়েন উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ছাত্রলীগ বলছে, মানবিক বিবেচনায় উপাচার্য ভবনের গেট খুলে দিয়েছেন তারা। এ প্রতিবেদন লেখার সময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন ছাত্রলীগ নেতারা। প্রায় ১০-১৫ জন চাকরিপ্রত্যাশীকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।