০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৩৬

জাবি ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসতে তদবির বিতর্কিতদের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল  © টিডিসি ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন হতে যাচ্ছে। এই কমিটিতে স্থান পেতে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা নানাভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই দীর্ঘদিন রাজীনিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা, ছাত্রলীগ ও শিবির থেকে অনুপ্রবেশ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে যাওয়া, সংগঠন শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের দায়ে বহিষ্কৃত সাবেক নেতার সাথে মিলে গ্রুপিং করার অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের ১২ মার্চ জাবি শাখা ছাত্রলদের কর্মী সম্মেলনে নতুন আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপর থেকে ছাত্রদলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিতর্কিতরাও নেতৃত্বে আসতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। তারা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক নেতা কিংবা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন।

জানা যায়, আসন্ন কমিটিতে আহ্বায়ক পদে আসতে দৌড়ঝাঁপ করছেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম সৈকত। তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন শাখা ছাত্রদলের দায়িত্ব পালন করার পরও আবারও নেতৃত্বে আসতে চাচ্ছেন। যদিও এই বিষয়ে সৈকত বলছেন, ‘আমি জাবি ছাত্রদলকে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য স্বল্প মেয়াদি এই আহ্বায়ক কমিটিতে প্রার্থী হয়েছি। নানান বাস্তবতায় আমাদের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার সুযোগ হয়নি। তাই আমি মনে করি এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি সুন্দর হল কমিটি এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা জরুরি। যেহেতু আমি দায়িত্বে ছিলাম, সেহেতু আমার পক্ষে স্বল্প সময়ে কাজটি করা সম্ভব। এই জন্যই আমি আহ্বায়ক হয়ে জাবি ইউনিটকে গতিশীল ও শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে গড়ে দিয়ে যেতে চাই।’

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বাবর ছাত্রদললের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নেতৃত্বে আসতে চাচ্ছেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, ক্যাম্পাস জীবনের শুরুতে তিনি শহীদ সালাম বরকত হল ছাত্রলীগের পলিটিকেল ব্লকে থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন কিছুদিন। এরপর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এছাড়া ক্যাম্পাসে তার নিজস্ব কর্মী না থাকায় সম্প্রতি সময়ে তিনি শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের দায়ে বহিস্কৃত জাবি ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানার সঙ্গে জোট বেঁধে আলাদা কর্মসূচী পালন করে আলোচনায় আসতে চাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাবর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি হল ছাড়ছি জাহাঙ্গীরনগরে সবার আগে। ৩৭ ব্যাচ যখন ক্যাম্পাস ছাড়ে তখন আমি ক্যাম্পাস ছাড়ি।’

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসরাফীল চৌধুরী সোহেলের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ মোবাইল ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। ২০১৬ সালে হেমায়েতপুরে অবৈধ জমি দখল করতে গেলে র‌্যাব তাকে আটক করে। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায় এ নেতা। এসব বিতর্কিত কাজের জন্য গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে সোহেল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বহিষ্কৃত সভাপতি সোহেলের বিরুদ্ধে ছিনতাই ডাকাতির অভিযোগ আছে। সেটাই আমার বিরুদ্ধে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমি হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার।’

এদিকে শাখা ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে যখন বেশিরভাগ নেতাকর্মী হামলা-মামলার শিকার। সেদিক থেকে ভিন্ন শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নবীনুর রহমান নবীন। তিনি ক্যাম্পাস রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে নেই কোন মামলা। এমনকি যেখানে ছাত্রলীগের হামলার ভয়ে ছাত্রদলের কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনা সেখানে নবীন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পানদোয়া বাজারে ওয়ালটনের ইলট্রনিক্সের ব্যবসা করছেন। এই বিষয়ে নবীন বলেন, ‘লাস্ট কয়েকটা অনুষ্ঠানে আমি সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলাম। আমাকে বিভিন্ন সময় মারা হইছে। আমার নামে একটা মামলাও আছে। আর ব্যবসার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমার নামে ব্যবসা না, মাঝে মাঝে বসি।’

অন্যদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নেতৃত্বে আসতে দৌড়ঝাঁপ করে যাচ্ছেন হুমায়ুন হাবীব হিরণ। ছাত্রদল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘২০১৬ সালের ১৯ সদস্যের কমিটিতে তার বন্ধুরা পোষ্ট পেলেও নিষ্ক্রয়তার কারণে তিনি পোস্ট পাননি। এক পর্যায়ে রাজনীতি ছেড়ে দিলেও ২০১৯ সালে ফজলুল রহমান খোকন ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ার পর আবার সক্রিয় হয়ে উঠেন তিনি। এখন ফজলুর রহমান খোকনের প্রভাব খাটিয়ে হিরণ আসন্ন আহ্বায়ক কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তিনি অপরিচিত মুখ। এমনকি নেই কোন নিজস্ব কর্মী।

এই বিষয়ে হিরণ বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত আমি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় আছি। আমার বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ২০১৬ সালের কমিটির উপর ১১ সদস্যের অনাস্থা ছিলো আমিও তার মধ্যে একজন। বর্তমান পদধারী অনেকেই অনাস্থা জানিয়েছিলেন। ওই সময় একত্রে কাজ না করলেও আলাদাভাবে কাজ চালিয়ে গিয়েছি। এরপর থেকে যথারীতি কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। আমার পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। আমার অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্যই একটা মহল এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।’

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ওয়াসিম আহম্মেদ অনিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতিতে নিস্ক্রীয় থাকা ও শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

জাবির কমিটির বিষয়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, ‘গত ২৫ নভেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত আহ্বায়ক কমিটি কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেওয়া হয়েছে। বাকিটা কেন্দ্রীয় কমিটি বসে আরও অধিকতর আলাপ আলোচনা করে আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি দিয়ে দিবে।’