জাবি কর্মচারীদের বিক্ষোভ, মারধরকারী শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারে আল্টিমেটাম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কর্মরত অবস্থায় শিক্ষার্থী কর্তৃক লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। এসময় বিক্ষুদ্ধ কর্মচারীরা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
রবিবার (১৫ই নভেম্বর) সকালে কর্মচারী ইউনিয়নের দপ্তর হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবন পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁরা। মিছিল শেষে বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্যে দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
এর আগে গত শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে কর্মরত এক নিরাপত্তা কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মির্জা সোহাগের বিরুদ্ধে। তিনি শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। অপরদিকে মারধরের শিকার নিরাপত্তাকর্মী হলেন আমিনুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কর্মচারী ইউনিয়নের কেবিনেট সভায় অভিযুক্ত ছাত্রকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি।
সমাবেশে কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি শরীফ মিয়া বলেন, “দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনো কর্মচারী অফিস করবে না।”
কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেন্টু খানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুর রহিম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কালাম হাওলাদার এবং সদস্য ফয়সাল কবীর ও কর্মচারী ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফেরদৌস রহমান।
বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনে মারধরের বিচারের দাবি জানান। এছাড়া নিরাপত্তাকর্মীদের করোনাকালীন প্রণোদনা এবং ঝুঁকি ভাতা দ্রুত দিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, “বন্ধ ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ করানোর জন্য ওই ছাত্র যা করেছে তা ছাত্র শৃঙ্খলা বিধির পরিপন্থী। আমরা আজকের ভিতরেই তদন্ত রিপোর্ট প্রদান জমা দিবো। সম্ভব হলে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”