টিএসসি-হল পাড়ায় শুধু ইফতার নয়, এ যেন মিলনমেলা
পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার আয়োজনে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। দিনভর রোজা রাখার পর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর উদ্যোগে হল পাড়া, টিএসসি চত্বর ও ভাবনা চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে বাহারি রকমের ইফতার। ফলে পুরো ক্যাম্পাস যেন পরিণত হয় ইফতার মিলনমেলায়।
আজ বৃহস্পতিবার ( ১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাবির হল পাড়ায় স্বেচ্ছাসেবীমূলক প্ল্যাটফর্ম ইনিশিয়েটিভ ফর সেইফ অ্যান্ড অ্যাসিউর ফিউচার (ইনসাফ) এর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। অন্যদিকে টিএসসিতে গণ-ইফতারের আয়োজন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। এছাড়া হলগুলোতেও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ইফতারের নানা আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান জানান, শেখ হাসিনার আমলে ক্যাম্পাসগুলোতে যে ইফতারের আয়োজন হতো সবগুলোকে একদম প্রজ্ঞাপন দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল। তারপর থেকে আমরা ওইটার প্রতিবাদ স্বরূপ গণ-ইফতার আয়োজন করি টিএসসিতে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল টাওয়ারের মসজিদে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বন্ধুরা, ছোট ভাইরা মিলে একটা ‘প্রোডাক্টিভ রমাদ্বান' নামে একটা প্রোগ্রাম আয়োজন করেছিল, রমজান বিষয়ক নানা আলোচনার জন্য। সেখানে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের লোকেরা হামলা চালায় এবং হামলা চালিয়ে ওদেরকে রক্তাক্ত করে আহত করেছিল। শেখ হাসিনার পতনের পরে আমরা ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে প্রত্যেক বছরই গণ-ইফতার আয়োজন করে আসছি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এ বছরও টিএসসিতে গণইফতার আয়োজন করেছি। এটা মূলত সেই প্রতিবাদেরই সিলসিলা।’
অপরদিকে ইনিশিয়েটিভ ফর সেইফ অ্যান্ড অ্যাসিউর ফিউচার (ইনসাফের) ইফতার বিতরণকালে সেখানে উপস্থিত হন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। তিনি জানান, ‘ইসলামি ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গত বছর ইফতার রমজানের ইফতার প্রোগ্রাম আয়োজন করেছিল টানা ২০ দিন ধরে। এবারের রমজানেও ছাত্রশিবিরের যে রানিং কমিটি তারা আগের প্রোগ্রামটা জারি রেখেছে।’
তিনি জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আজকে ১৫০০ শিক্ষার্থীকে ইফতার উপহার পৌঁছানো হচ্ছে। এটা মূলত ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করা। একসাথে সকল শিক্ষার্থীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে যেভাবে আনন্দ ভাগাভাগি করা দরকার আমাদের সামর্থ্যের আলোকে, আমাদের যে সকল শুভাকাঙ্ক্ষী আছে তাদেরকে এখানে থাকার ব্যবস্থা করে (একোমোডেট) সবার হাতে হাতে ইফতার উপহার পৌঁছানোর চেষ্টাটা আমরা করছি।’