১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:২৫

বিয়ের প্রলোভনে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, রাবি অধ্যাপককে অব্যাহতি

অভিযুক্ত শিক্ষক দুলাল আলী মোল্লা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করার মামলার তদন্তের স্বার্থে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দুলাল আলী মোল্লাকে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ৪ জানুয়ারি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী।

জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. দুলাল আলী মোল্লাহকে সকল প্রকার অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সোমবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪৬তম সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন: ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রেখে বারবার ধর্ষণচেষ্টা, রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর সাথে ২০২১ সাল থেকে ওই শিক্ষকের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তাও চলে। গত ২৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮-৯টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তাকে আটকে রেখে বার বার ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন দুলাল আলী মোল্লা। পরদিন (২৮ ডিসেম্বর) ভোরে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যান এবং পরে জনৈক এক নারীকে ‘বউ’ সাজিয়ে বাসায় ফিরে আসেন। এ সময় আরও তিন সহযোগী তাদের সঙ্গে বাসায় আসেন। সেখানে ভুক্তভোগীকে মারধর ও শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে বাসায় একা ফেলে গ্যাস-পানি বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী ওই সময়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি থানায় মামলা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। আমার মুরুব্বিরা সমাধানের চেষ্টা করছেন। অভিযুক্ত অধ্যাপক দুলাল আলী মোল্লার মুঠোফোন নম্বরে কল দিয়ে তার যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোনটি বন্ধ আছে।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মো. এমরান হোসেন ওই সময়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে এবং অভিযুক্ত পলাতক আছেন। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।