০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪১

৫ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ হারালেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মুরাদ ও শারাবান তহুরা

রাবি ও কুবি লোগো  © টিডিসি ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই প্রতিষ্ঠানের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী প্রাণ হারান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী মাহদী হাসান মুরাদ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শারাবান তহুরা সাকি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাটোরের আব্দুলপুর জংশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হন মাহদী হাসান মুরাদ। তিনি রাবির ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তাঁর বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহযাত্রী সূত্রে জানা যায়, তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আব্দুলপুর জংশনে ইঞ্জিন পরিবর্তনের জন্য থামলে মুরাদ রেললাইনের মধ্য দিয়ে বিপরীত পাশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় ট্রেনের ইঞ্জিনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ট্রেনের চাকা তাঁর পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। ২-৩ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে তিনি প্রাণ হারান।

একই ট্রেনে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাই একই ট্রেনে যাচ্ছিলাম। শুরুতে বুঝতে পারিনি যে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি আমাদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার মরদেহ মুখ থুবড়ে পড়া থাকায় চেনা কঠিন ছিল। পরে যখন জানতে পারি, তখন ট্রেন ইতোমধ্যে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফলে আমি ট্রেনে উঠে পড়ায় সেখানে থাকতে পারিনি। তার সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারিনি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, রেলওয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা আমরা দেখিনি।’

রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আমরা এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। বিভাগের সভাপতি, প্রশাসন এবং দুর্ঘটনাস্থলে যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

এদিকে, কিডনি বিকল ও হৃদরোগের জটিলতায় ভুগে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মারা যান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারাবান তহুরা সাকি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকেরা জানান তাঁর দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে এবং হৃদপিণ্ডেও গুরুতর জটিলতা রয়েছে। ফুসফুসে পানি জমে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকেরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিলেও সেই সুযোগ আর মেলেনি।

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নিজমেহার গ্রামে জন্ম নেওয়া শারাবান তহুরা ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তহুরার ১০ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোক বিরাজ করছে।