জাবির সেই ছাত্রদল নেতার মৃত্যু
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম রনি মারা গেছেন।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরে আলম সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। মরদেহ নিজ বাড়ীতে নিয়ে দাপন সম্পন্ন করা হয়।
সাইফুল ইসলাম রনির মৃত্যুতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান নিজের ফেসবুক একাউন্টে শোক প্রকাশ করে লেখেন, ‘আহা জীবন! সাইফুল ইসলাম রনি নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ৪৭ তম আবর্তন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য। গত চার দিন আগেও আমার সাথে দেখা করতে আসতে চেয়েছিলো, আর দেখা হলো না! জাবি ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামনগরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবস্থায় আজ সকাল ১০:০০ টায় ইন্তেকাল করেছে। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
আরও পড়ুন: আগুনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৪
এর আগে, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ইসলামনগরের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে অন্যরা হলেন— আব্দুস সোবহান রায়। আহত অন্য দুইজন হলেন হাসিনুর ও রাহাত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ঘটনার সময় ইসলামনগর এলাকার ওই বাসার দ্বিতীয় তলায় হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরে থাকা চারজনই দগ্ধ হন। গুরুতর আহত সাইফুল ইসলাম রনি ও হাসিনুরকে রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুইজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, শিক্ষার্থী রনির পিঠ, হাত এবং একটি চোখ আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের খণ্ডকালীন চিকিৎসক অমিতাভ দাস বলেন, গুরুতর দগ্ধ হয়ে দুজন সেখানে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। এ ছাড়া আরও দুজন দগ্ধ হয়ে সাভারে চিকিৎসা নিতে গেছেন বলে জেনেছেন তিনি। যে দুজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে আহত সাইফুল ইসলামের শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।