কর্মজীবী নারীদের নিয়ে জামায়াত আমীরের আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে রাবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তারা।
এ সময় তারা নারী অবমাননার বিরুদ্ধে ও বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের স্লোগানগুলো ছিল 'ক্ষমতার লোভে অন্ধ, জামাত-শিবির ভণ্ড', 'জামাত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়', 'শফিক তুই ক্ষমা চা, নারীরা কিন্তু পতিতা না' ইত্যাদি।
বিক্ষোভ সমাবেশে উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আফরিন জাহান বলেন, কেউ নারী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না, তাকে নারী হয়ে উঠতে বাধ্য করে এরকম মেন্টালিটির মানুষগুলো। আমি তাদেরকে বলতে চাই, নারীকে নারী হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখুন। এখন সময় এসেছে বদলাবার। এসব মানসিকতা আপনারা বাদ দেন।
শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, সেই সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা আজও প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বিশেষভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, যিনি নারীদের সম্মান দিতে জানেন না এবং যাদের তিনি 'বেশ্যা' বা 'পতিতা' বলে আখ্যায়িত করেছেন, এ ধরনের বক্তব্য ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একাত্তরে যারা নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তারাই আজ নারীদের অবমাননাকর ভাষায় চিহ্নিত করছে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, যেসব নারীদের অপমান করা হয়েছে, তারাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিকভাবে তাদের জবাব দেবে। কোন অধিকারে নারী সমাজকে এভাবে অবমাননা করা হয়েছে? এ ধরনের বক্তব্যের জন্য কোনো ক্ষমা নেই এবং ভবিষ্যতে জনগণই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।
এসময় রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, কী ভাষায় উত্তর দিলে এই মুনাফিকরা এই দেশের নারীদের সম্মান করবে, তা আমরা জানি না। কোন ভাষায় প্রতিবাদ করলে তারা মূল ধারার রাজনীতিতে ফিরবে, সেটাও আমাদের অজানা। ক্ষমতার লোভে তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছে। ড. শফিকুর রহমান তুমি সেই নারীদের বেশ্যা বলেছ, যারা আমাদের মুমূর্ষু মানুষকে সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলে, সেই নার্সদেরকেও তুমি অপমান করেছ। এর মাধ্যমে তুমি এই দেশের ৯ কোটি নারীকে অসম্মান করেছ। এমন আচরণ করে এ দেশে রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার এই দলের নেই।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের অবমাননা করে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত থেকে দাবি করা হচ্ছে, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল।